রাখাইনে এবার পুলিশ স্টেশনও দখলে নিলো আরাকান আর্মি!
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। বিদ্রোহীদের তোপের মুখে এর মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জান্তা। এবার রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ের কাছে পোনাজিউন শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি জানিয়েছে আরাকান আর্মি।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতী জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ওই পুলিশ স্টেশন নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করে আরাকান আর্মি।
এর আগে, সম্প্রতি সিতওয়ের কাছাকাছি পাকতাও নামের একটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরাকান আর্মি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মির পক্ষ থেকে সিতওয়ে এলাকায় নিয়োজিত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কমান্ডারকে আত্মসমর্পণ করার বা পরাজয় স্বীকার করে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, রাখাইনে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চল বুথিডং থেকে শতাধিক মুসলিম তরুণকে (রোহিঙ্গা) ধরে নিয়ে গেছে দেশটির সামরিক জান্তা। জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার জন্যই তাদের তুলে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নারিনজারা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধরে নিয়ে যাওয়া তরুণের মধ্যে পা জুন চাউং গ্রামের ১৩ জন, তাত মা চাউং গ্রামের ৫৫ জন, এনগা কিয়িং তাউক গ্রামের ৩৩ জন এবং কিউক ফিউ তাউং গ্রামের ১০ জন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি গ্রামটিতে প্রবেশ করে ওই তরুণদের ধরে নিয়ে যায় জান্তা বাহিনী।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নারিনজারা নিউজকে বলেন, সেনারা গ্রামে এসে তাদের আটক করে। আটকদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের ৫৩৫তম এবং ৩৫৩তম ব্যাটালিয়নে নিয়ে যাওয়া হয়। সেনারা আরও গ্রামবাসীকে ধরে নেয়ার হুমকি দিয়ে গেছে। এতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি নারিনজারা নিউজকে বলেন, আরও মানুষকে আটকের হুমকি দেয়ায় গ্রামের তরুণরা পালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে নারিনজারা নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) কাছে পরাস্ত হয়ে এবার ওই অঞ্চলের মুসলিমদের হাতে অস্ত্র তুলে দিতে চায় মিয়ানমার জান্তা।