আট মাস পর হাসাওং পুনর্দখলের দাবি জান্তার, কারেননি রাজ্যে লড়াই অব্যাহত
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দাবি করেছে, কারেননি (কায়াহ) রাজ্যের কৌশলগত শহর হাসাওং পুনর্দখল করা হয়েছে। প্রতিরোধ বাহিনীর দখলে যাওয়ার আট মাস পর রোববার শহরটিতে সেনারা প্রবেশ করেছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিরোধ-ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।
জান্তা সরকারের দাবি, বাউলাখে–হাসাওং সড়ক ধরে তিনটি সেনা কলাম অগ্রসর হয়ে শহরে ঢুকে পড়ে। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ‘ইয়ান নাইং মিন’ পাল্টা অভিযানে ৩১টি সংঘর্ষে জড়িয়ে তারা অস্ত্র জব্দ করেছে এবং বহু প্রতিরোধযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
হাসাওং শহরটি সালউইন নদীর তীরে অবস্থিত। এটি প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রিত মাওচি টিন ও টাংস্টেন খনি এলাকার প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে মেসে এলাকায় অবস্থিত কারেননি আর্মির
সদর দপ্তর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে। সালউইন নদীর ওপর হাসাওং ও মেসেকে সংযুক্তকারী থান লুইন সেতু মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাত একটি গোষ্ঠী উড়িয়ে দেয়।
কারেননি প্রতিরোধ বাহিনী গত বছরের ৩০ জুন স্থানীয় লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন (এলআইবি) ১৩৪-কে পরাজিত করে এবং নিকটবর্তী এলআইবি ১৩৫ ঘাঁটি ঘেরাও করে হাসাওং দখল করেছিল।
প্রতিরোধ-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, জান্তা বাহিনী শহরের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এক প্রতিরোধ যোদ্ধাও নিশ্চিত করেছেন যে সেনারা শহরে প্রবেশ করেছে।
মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীকে এক সামরিক বিশ্লেষক বলেন, অতিরিক্ত সেনা পৌঁছানোর কারণে জান্তা হয়তো পূর্ণ পুনর্দখলের দাবি করছে। তবে হাসাওং পুনর্দখল হলেও কারেননি অঞ্চলের আরও এলাকা দখল করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
প্রতিরোধ-ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রের মতে, মেসে এলাকায় কারেননি আর্মির সদর দপ্তরে সরাসরি হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম, কারণ সেখানে জান্তার নিকটবর্তী কোনো ব্যাটালিয়ন নেই এবং সরবরাহ লাইন দীর্ঘায়িত হয়ে পড়বে। বরং হাসাওং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর মাওচি খনি এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
কারেননি আর্মির মুখপাত্র কর্নেল ভোনে নাইন এবং কারেননি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্সের উপ-কমান্ডার মাউইর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে জান্তা নিয়োগপ্রাপ্ত কারেননি মুখপাত্র জারনি মাউংও মন্তব্য করেননি।
২০২৩-২০২৪ সালে কারেননি প্রতিরোধ বাহিনী কারেননি রাজ্যের মেসে, নানমেকন, ইয়ওয়াথিত, মাওচি ও শাদাও এবং পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ শান রাজ্যের মোবিয়ে—মোট ছয়টি শহর দখল করে। হাসাওংও তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, যদিও এলআইবি ১৩৫ ঘাঁটি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল।
তবে ২০২৫ সালে জান্তার পাল্টা অভিযানে মোবিয়ে ও নানমেকন শহর পুনরায় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।