বেড়ার এপারে চলে আসবে মেঘালয়ের গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠেকাতে ঢাকার দ্বারস্থ দিল্লি

বেড়ার এপারে চলে আসবে মেঘালয়ের গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠেকাতে ঢাকার দ্বারস্থ দিল্লি

বেড়ার এপারে চলে আসবে মেঘালয়ের গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠেকাতে ঢাকার দ্বারস্থ দিল্লি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বর্তমান নকশা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র জটিলতা। মেঘালয়ের একটি সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামের বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বেড়া দেওয়া হলে তাঁদের পুরো গ্রামটিই ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের দিকে (বেড়ার ওপারে) পড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব ও দেশটির মানচিত্রে টিকে থাকতে রবিবার থেকে তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এই জটিলতা নিরসনে এবার ঢাকার দ্বারস্থ হয়েছে দিল্লি।

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার ঠিক সীমান্ত রেখা বা ‘জিরো লাইনে’ অবস্থিত ‘লিংকং’ গ্রাম। এটি এমন এক অনন্য জনবসতি, যেখানে ভারতীয় নাগরিকদের ঘরের মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বেই রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত জিরো লাইন থেকে অন্তত ১৫০ গজ ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হয়। আর এই নিয়মটিই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে লিংকং গ্রামের মানুষের জন্য। ১৫০ গজ ভেতরে বেড়া দিতে গেলে পুরো গ্রামটিই ভারতের মূল নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে পড়ে যায়।

কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে গ্রামবাসীরা নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গ্রামটিকে আলাদা করে রেখেছিলেন। কিন্তু স্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বর্তমান নকশা তাঁদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

এই নকশার প্রতিবাদে আজ রবিবার গ্রামবাসীরা এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন এবং পাইনুরস্লার সাব-ডিভিশনাল অফিসারের কাছে চলমান কাজ অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

গ্রামপ্রধান রামু সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে বলেন, “আমরা সীমান্ত বেড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে নই। তবে আমাদের দাবি, এই বেড়া যেন একদম জিরো লাইনেই দেওয়া হয়। যাতে আমাদের গ্রামটি ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার নিরাপদ বেষ্টনীর মধ্যেই সুরক্ষিত থাকে।”

একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসডির কণ্ঠেও। তিনি বলেন, “বর্তমান নকশায় বেড়া হলে আমাদের গ্রামটি ওপারে পড়ে যাবে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে আছি। রাজ্য সরকার যেন আমাদের এই উদ্বেগের কথাটি কেন্দ্র সরকারকে জানায়।”

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেসব সীমান্ত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি বা গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক নিয়মের কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটিয়ে একদম জিরো লাইনেই ‘একক সারির বেড়া’ নির্মাণের একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

এই প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, “জিরো লাইনে একক সারির বেড়া নির্মাণের প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কাছ থেকে এখনও এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্মতি আসেনি।”

বর্তমানে মেঘালয়ের সাথে বাংলাদেশের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় জটিলতা ও দুর্গম পাহাড়-নদীর কারণে ৮০ কিলোমিটারেরও কম অংশ বেড়াবিহীন অবস্থায় আছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি দিতে ইতিমধ্যে লিংকং গ্রামে একটি বিশেষ সীমান্ত চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামে বিএসএফ-এর সার্বক্ষণিক উপস্থিতি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রামবাসীদের দাবি একটাই—কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত জিরো লাইনেই বেড়া দেওয়ার সবুজ সংকেত আসুক ঢাকা থেকে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *