বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদারে ত্রিপুরায় সিসিটিভি মডেল বাস্তবায়নের নির্দেশ অমিত শাহর
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ত্রিপুরায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমএইচএ) সিসিটিভি নজরদারি মডেল বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পরিচালিত সব ক্যামেরা আধুনিকায়ন এবং সেগুলোকে জেলা প্রশাসনের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ জুন ত্রিপুরার সালবাগানে অনুষ্ঠিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, প্রধান সচিব জে কে সিনহা, পুলিশ মহাপরিচালক অনুরাগ এবং রাজ্য ও নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা ত্রিপুরার আটটি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপাররাও বৈঠকে অংশ নেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ভাগাভাগি করা ত্রিপুরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা এবং চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর একক দায়িত্ব হিসেবে দেখা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রযুক্তি এবং বিএসএফকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
বৈঠকে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার দেশের প্রতিটি সীমান্ত অঞ্চলকে শক্তিশালী করছে এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”
অমিত শাহ আরও বলেন, “সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা” গড়ে তোলা প্রয়োজন। তার মতে, শুধু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, পাটওয়ারি, সরপঞ্চ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য মাদক ও অস্ত্র পাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় পুলিশ, বিএসএফ সদস্য এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
সীমান্তপারের অপরাধ দমনে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অমিত শাহ মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে ঘন ঘন অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, “মাদক ও অস্ত্র পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এছাড়া সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় এবং বড় বড় ভবন নির্মাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কথা বলেন। আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় গত পাঁচ বছরের ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের অনিয়ম রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখারও নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা প্রশাসক এবং পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জাল মুদ্রার বিস্তার নিয়ে সমীক্ষা চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ডকে (সিবিডিটি) নির্দেশ দেন। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সার্বিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদারে রাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।