পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে বা একক সিদ্ধান্তে নয়, বরং পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত উদ্যোগই দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সাধারণ মানুষ। দুর্যোগ মোকাবিলায় কোনো প্রতিষ্ঠানের একক সাফল্যের চেয়ে জনগণের দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “দুর্যোগের এই সময়ে কে কতটুকু কাজ করল বা কোন সংস্থা কতটা অবদান রাখল—এই হিসাব করার সময় এখন নয়। সরকারি, বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”

পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং অন্যান্য সংস্থার অধীনে অসংখ্য ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এতগুলো বিচ্ছিন্ন প্রকল্পে একযোগে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভবিষ্যতে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও জনগণের বাস্তব প্রয়োজনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও উন্নয়ন বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অবস্থাতেই উন্নয়ন বরাদ্দ অব্যবহৃত রেখে কোষাগারে ফেরত দেওয়া উচিত নয়। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জনগণকে এর সুফল পৌঁছে দিতে হবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করারও আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক বন্যায় বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তারা সড়ক যোগাযোগ, বসতঘর, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *