সবুজ বাংলাদেশ গঠনে সেনাবাহিনীর বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। দেশব্যাপী চলমান বৃক্ষরোপণ অভিযানের অংশ হিসেবে এবার বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
শনিবার (১৮ জুলাই) ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ক্যাম্প প্রাঙ্গণ ও আশপাশের উপযোগী স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি এবং পরিবেশবান্ধব বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন বনায়নের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন শাফকাত, লেফটেন্যান্ট আলভী সহ পদবির সেনাসদস্যরা। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে অংশ নেন এবং চারাগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষাই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও সেনাবাহিনী সমানভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণকে একটি কার্যকর প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যেই দেশব্যাপী সেনানিবাস ও সেনা ক্যাম্পগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না; এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি, বনায়ন সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং জনগণের কল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনমুখী, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।