গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও তরুণদের পাশে সেনাবাহিনী, রামসু বাজারে ঢেউটিন ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির গুইমারার রামসু বাজার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং স্থানীয় তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে রামসু বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে গৃহ নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং তরুণদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে সিন্দুকছড়ি জোন।
সম্প্রতি সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঘর পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয় ঢেউটিন তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ক্ষয়ক্ষতির পর নিজস্ব বসতঘর পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। ঘর নির্মাণের উপকরণ সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিজেদের বসতভিটায় স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনার কাজে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে, রামসু বাজার এলাকার তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে কেরাম বোর্ড বিতরণ করা হয়। স্থানীয় যুবসমাজকে মাদক, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার মতো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের জন্য নিয়মিত বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এ ধরনের উদ্যোগ তাদের অবসর সময়কে গঠনমূলক কাজে ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রামসু বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনী পাশে থাকবে। শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে খুব শিগগিরই হুইলচেয়ার, শিক্ষা উপকরণ, সেলাই মেশিন, সোলার ল্যাম্পপোস্ট, দোকানঘর নির্মাণ এবং দোকানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে, অন্যদিকে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয়দের স্বাবলম্বী হওয়ার পথও তৈরি হবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় মানুষের প্রয়োজন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; জরুরি সময়ে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সহায়তা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগাযোগ ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের উপকরণ দেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগুনে বসতঘর বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি পরিবারকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে খাদ্য বা তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি ঘর পুনর্নির্মাণ ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের সুযোগ প্রয়োজন হয়। সেই জায়গা থেকে সিন্দুকছড়ি জোনের ঢেউটিন বিতরণের উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে পুনর্বাসন সহায়তার একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

একইভাবে তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগেরও সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুণাবলি বিকাশের সুযোগ তৈরি করে। মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের ঝুঁকি কমাতে তরুণদের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ তৈরি করাকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
রামসু বাজার এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় তরুণদের জন্য একই কর্মসূচির মাধ্যমে পুনর্বাসন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকার সুশীল সমাজ সেনাবাহিনীর এ মানবিক সহযোগিতার জন্য সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সিন্দুকছড়ি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ ধরনের উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ফলে রামসু বাজারে বর্তমান সহায়তার পাশাপাশি সামনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, প্রতিবন্ধী সহায়তা, সৌরবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা সহায়তার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।