খাগড়াছড়িতে বিশ্ব পর্যটন দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

খাগড়াছড়িতে বিশ্ব পর্যটন দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

খাগড়াছড়িতে বিশ্ব পর্যটন দিবসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে শহীদ মিনার ও আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় দিবসটির আলোচনা সভা।

শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া এবং জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাতসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ঝরনা, বনাঞ্চল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এই সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। পরিকল্পিত উদ্যোগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ, পর্যটনসেবার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাত আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদন বা ভ্রমণের খাত হিসেবে না দেখে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাহাড়ের পর্যটন সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

এ সময় বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রের তথ্য সহজে পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ, পর্যটন স্পটের প্রচার ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন বিকাশে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও জীবনধারাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল স্থানীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে টেকসই পর্যটন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর বৈশ্বিক থিম ‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’, যার মূল লক্ষ্য পর্যটনের ভবিষ্যৎ রূপান্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা তুলে ধরা। বাংলাদেশেও এ বছর দিবসটি উপলক্ষে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ির আলোচনায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ের পর্যটনভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed