পানছড়ির দুর্গম পাড়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্কুল পুনর্নির্মাণ, ৪৫ পরিবার পেল সুপেয় পানি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে শিক্ষা ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সীমান্তঘেঁষা প্রত্যন্ত প্রফুল্ল কার্বারী পাড়ায় একটি জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প ও সরবরাহ লাইন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে মাটিরাঙ্গা জোনের ব্যবস্থাপনায় পুনর্নির্মাণ করা প্রফুল্ল কার্বারী পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সৌরচালিত পানির পাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোন এ জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল এবং পানছড়ির ৫ নম্বর উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় প্রফুল্ল কার্বারী পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে বিদ্যালয়টির ভবন সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণ করা হয়।

নতুন ভবন পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফিরেছে উৎসাহ ও আনন্দ। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি ত্রিপুরা বলে, ‘আগে আমাদের স্কুলটা অনেক পুরোনো আর ভাঙা ছিল। এখন স্কুলটা অনেক সুন্দর হয়েছে, ক্লাস করতেও ভীষণ আনন্দ লাগছে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবনে বাচ্চাদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বেগে থাকতাম। সেনাবাহিনীর সংস্কার কাজের পর শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।’
শুধু শিক্ষা নয়, দুর্গম এই পাড়ার দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। স্থানীয়দের জন্য স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প। পাম্প থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রফুল্লপাড়ার দুটি এলাকার প্রায় ৪৫টি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে নিরাপদ পানি। পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের সুবিধার্থে স্থাপন করা হয়েছে একটি পানির ট্যাংকও।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শান্তি জীবন ত্রিপুরা বলেন, ‘পানির জন্য আমাদের মা-বোনদের মাইলের পর মাইল দুর্গম পথ হাঁটতে হতো। সৌরচালিত পাম্প বসানোর পর সেই কষ্টের অবসান ঘটেছে।’

৫ নম্বর উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম বলেন, ‘দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট দূর হয়েছে। ৪৫টি পরিবার এখন সহজেই সুপেয় পানি পাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাসুদ খান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
দুর্গম পাহাড়ি জনপদে একই সঙ্গে শিক্ষা ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করেছে, আর সৌরচালিত পানির পাম্প দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে পরিবারগুলোকে স্বস্তি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের বহুমাত্রিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।