পেশোয়ারে অচলাবস্থা, খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা মোতায়েন করলো পাকিস্তান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
এদিকে, প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ারে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থগিত রয়েছে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবাও।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন- এর হাতে থাকা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সরকারি স্থাপনা সুরক্ষার জন্য সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনসংক্রান্ত ঘোষণা যত দিন কার্যকর থাকবে, সেনা মোতায়েনের অনুমোদনও তত দিন বহাল থাকবে। রাওয়ালপিন্ডির সেনাসদরের সামরিক অভিযান পরিদপ্তরের সঙ্গে পরামর্শ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি কতসংখ্যক সেনাসদস্য ও কী পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।
বন্ধ টেলিযোগাযোগ, এটিএম থেকেও টাকা তোলায় ভোগান্তি
পেশোয়ারে মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ল্যান্ডফোন ও ডিএসএল ইন্টারনেটসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে বলে খবর দিয়েছে ডন। এর কয়েক দিন আগেও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লং মার্চকে কেন্দ্র করে শহরে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা মোবাইল পরিষেবা বন্ধ ছিল।
নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। এটিএম বুথগুলো সারা দিন অচল ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শহরের সব এলাকায় পরিস্থিতি একই রকম ছিল না। কোহাট রোড, পীর জাকোরহি সেতুর পরবর্তী জিটি রোড ও খাইবার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও শহরের উপকণ্ঠের কয়েকটি জায়গায় পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। তবে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর যানবাহন টহল দিচ্ছিল। শহর ও উপকণ্ঠের কোহাট রোড, জিটি রোড, ইউনিভার্সিটি রোড ও ওয়ারসাক রোডেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পিটিআই ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধের মধ্যে জরুরি অবস্থা
খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পেছনে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে চলমান বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ চলছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমনের নীতি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ তীব্র হয়েছে।
গত ৩ অক্টোবর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই সন্ত্রাসবিরোধী নীতি। প্রদেশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিটিআইকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। তবে কেন্দ্রীয় সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পিটিআই সন্ত্রাসবিরোধী নীতি পর্যালোচনা এবং সামরিক অভিযান বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। আফগান তালেবানের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে প্রাদেশিক সরকারের অবস্থান নিয়েও আপত্তি রয়েছে কেন্দ্রের।
জরুরি অবস্থা জারির এক দিন আগে শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ
জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা সামনে রেখে শনিবারই খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদ জেলার পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সম্ভাব্য সহিংস বিক্ষোভ ও নাশকতার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি পুলিশকে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেন।
পুলিশ মহাপরিদর্শকের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় পেশোয়ারের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও), উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তা (এসডিপিও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (এসএইচও) ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিপিওরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবেন। বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে বলপ্রয়োগ করতে হবে ধাপে ধাপে। প্রথমে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে স্পষ্টভাবে সতর্ক করতে হবে, এরপর প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।