ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় দম্পতির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। একইসঙ্গে ইরান সরকারকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ইরানের তেল বিক্রির সক্ষমতা বন্ধ করে দেওয়া।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিল মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের পদক্ষেপে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হচ্ছে। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
বুধবারের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শহিদ এবং তাদের দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধান আরও দুই ভারতীয় নাগরিকের নাম রয়েছে। এ ছাড়া, শর্মার সঙ্গে যুক্ত আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্ক’ পরিচালনা করতেন।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোকে ইরানের পেট্রোলিয়াম পরিবহনে সহায়তা করতে এই নেটওয়ার্ক ভুয়া পতাকা ও নকল সনদ সরবরাহ করত। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজও রয়েছে।
ভুয়া পতাকা ও জাল সামুদ্রিক সনদের মাধ্যমে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলতে পারে। এসব জাহাজের কোনো ক্ষতিপূরণমূলক বীমাও থাকে না। ফলে অন্য দেশের জলসীমায় চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।
এ ছাড়া, ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটির বিমান চলাচল খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখার অভিযোগে তুরস্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোথায় আছেন, তা আমরা জানি। স্থলপথ, সমুদ্রপথ কিংবা আকাশপথে যারা ইরানি সরকারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবেন, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।’
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের চণ্ডীগড়ে বসবাসকারী সুনীল কুমার শর্মা ও তার স্ত্রী জসপ্রীত প্রীতি শহিদ জালিয়াতির মাধ্যমে গায়ানা, ইসোয়াতিনি ও লাওসের মতো দেশের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জাহাজের পতাকা ও সনদ ইস্যু করতেন। এর ফলে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর হয়ে পরিচালিত জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলাচল করতে পারত।
শর্মার নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ওয়েব ডোমেইন কিনে এসব দেশ ও আরও কয়েকটি দেশের পক্ষে সেবা দেওয়ার দাবি করে ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল। এসব সেবার মধ্যে ছিল জাহাজের পতাকা নিবন্ধন, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণিবিন্যাস।
এই দম্পতি ভারতে নিবন্ধিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্কও পরিচালনা করতেন। এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ভুয়া পতাকা নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোও নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
ওএফএসি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সেবা ও অন্যান্য সহায়তা দিত বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
এসব বিমান সংস্থা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তুরস্কে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছিল। সংস্থাগুলো হলো ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনস।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।