আলীকদমের দুর্গম ৩২ পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দিল সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম থিংকু পাড়াসহ উপজেলার ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাস্তবায়িত হয়েছে পানি সরবরাহ প্রকল্প। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পানির জন্য ভোগান্তি পোহানো স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে স্বস্তি ফিরে আসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের থিংকু পাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (১৭ ইসিবি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর আওতায় দুর্গম থিংকু পাড়াসহ মোট ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেককে দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভর করতে হতো। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে পানির উৎস শুকিয়ে গেলে দেখা দিত তীব্র সংকট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ৩২টি পাহাড়ি পাড়ার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন পানির প্রয়োজন মেটানো আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পানি সংগ্রহের জন্য দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার কষ্ট কমবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানির ব্যবস্থা হওয়ায় স্থানীয় পরিবারগুলো স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। দুর্গম এলাকায় এমন একটি মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল সক্ষমতা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিষয়টিও বিশেষভাবে প্রশংসার দাবি রাখে।

এ বিষয়ে ১০ কিলো এলাকার থিংকু পাড়ার কারবারি বিশ্ব ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের লোকজন একসময় অনেক কষ্ট করে ঝিরি-ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। শুকনো মৌসুমে ঝিরিগুলো শুকিয়ে গেলে কোথাও আর পানি পাওয়া যেত না। এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে গ্রামের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন করে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
বিশ্ব ত্রিপুরার বক্তব্যে দীর্ঘদিনের পানির সংকট ও স্থানীয় মানুষের ভোগান্তির চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর মতো দুর্গম এলাকার অনেক বাসিন্দার কাছে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আলীকদমের ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের এ প্রকল্প তারই একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনগণের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তি ও আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।