সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কর্তৃক নওমুসলিম ইমামকে গুলি করে হত্যা, প্রতিবাদে উত্তাল বান্দরবান - Southeast Asia Journal

সশস্ত্র সন্ত্রাসীগোষ্ঠী কর্তৃক নওমুসলিম ইমামকে গুলি করে হত্যা, প্রতিবাদে উত্তাল বান্দরবান

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ওমর ফারুক (৫৪) নামে এক নওমুসলিম মসজিদের ইমামকে গুলি করে হত্যা করেছে উপজাতি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। গত ১৮ জুন শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রোয়াংছড়ি উপজেলার রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের তুলাছড়ি আগা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ওমর ফারুক রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নের তুলাছড়ি আগা পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি নওমুসলিম। তার জন্মগত নাম পূর্ণচন্দ্র ত্রিপুরা। পিতার নাম তয়ারাম ত্রিপুরা। এ ঘটনার পরপর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সেখানে যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।

নিহত ওমর ফারুক ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে কয়েক বছর আগে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ওই এলাকায় একটি অস্থায়ী মসজিদের ইমামতি করে আসছিলেন।

বান্দরবানে পুলিশ সুপার জেরিন আক্তার জানিয়েছেন সন্ত্রাসীরা রাতে তাকে ঘর থেকে ডেকে মসজিদের সামনে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। ঘটনার পর সেখানে রোয়াংছড়ি ও পার্শ্ববর্তী লংলাই সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়েছে। এছাড়া রোয়াংছড়ি থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরন করেছে। এলাকাটি বান্দরবান সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর হয়েও খ্রিস্টান ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ তাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখার ক্যাডাররা জড়িত। ঘটনাস্থল তুলাঝিড়ি পাড়ায় গত কয়েক বছর ধরে নওমুসলিম এর কয়েকটি পরিবারসহ বেশ কিছু পরিবার বসবাস করে আসছিল। তারা সেখানে টিনের ছাউনির কাঁচা ঘরের একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করে। সেখানে নওমুসলিম মোহাম্মদ ওমর ফারুক মসজিদের ইমামতি করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে ৪/৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল ঘরবাড়ি ঘেরাও করে ওমর ফারুককে ঘর থেকে ডেকে এনে মসজিদের সামনে গুলি করে হত্যা করে।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছে উঠেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান শহর। নওমুসলিম মসজিদের ইমাম ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে পাবত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। ১৯ জুন শনিবার সকালে মুক্তমঞ্চের সামনে এক ঘন্টা ব্যাপি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাবত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতা তারু মিয়ার সভাপতিত্বে জেলা সভাপতি কাজি মজিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক নাছিরুল আলম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম ও মিজানুর রহমান প্রমুখ। পরে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা, রোয়াংছড়িতে নওমুসলিম ওমর ফারুককে হত্যার ঘটনায় পাহাড়ের সন্ত্রাসী আঞ্চালিক সংগঠন জেএসএস সন্তু লারমার বাহিনীকে দায়ী করেন। সন্তু লারমা পাহাড়ে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করার লক্ষে একের পর এক হত্যা কান্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবী করেন তারা । এছাড়াও পাহাড়ে চাঁদাবাজী গুম খুনের সাথে সন্তু লারমা জড়িত বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।