খাগড়াছড়িতে শুরু কঠিন চীবর দান উৎসব - Southeast Asia Journal

খাগড়াছড়িতে শুরু কঠিন চীবর দান উৎসব

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চীবর (কাপড়) তৈরি করে তা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দানের মাধ্যমে পুণ্য সঞ্চয় হয়– এমন বিশ্বাস থেকে বৌদ্ধ শাস্ত্রে এই দানকে শ্রেষ্ঠ দান বলা হয়।

বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুবল জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘কঠিন চীবর উৎসবকে ঘিরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পুণ্যের আশায় চীবর দানসহ নানা ক্রিয়াকর্ম পালন করে থাকেন। চলতি বছর খাগড়াছড়িতে ধর্মপুর আর্য বন বিহার, পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুঠির, লোগাং বন বিহার, ক্ষানিপুর বন বিহার, ইটছড়ি বন বিহারসহ প্রায় ২৬টি বন বিহারসহ চার শতাধিক বৌদ্ধ বিহারে এ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।’

সাংবাদিক রূপায়ণ তালুকদার বলেন, ‘আষাঢ়ি পূর্ণিমার পরদিন থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী ওয়া বা বর্ষাব্রত পালন শুরু হয়েছিল, যা গত রবিবার শেষ হয়েছে। তিন মাস পর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে প্রবারণা পূর্ণিমা। বিহারে বিহারে শুরু হয়েছে কঠিন চীবর দানোৎসব। চলবে পুরো একমাস। নভেম্বরের ৯ তারিখ পর্যন্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানটিকে কঠিন চীবর দান বলার কারণ প্রথমে চরকার মাধ্যমে তুলা থেকে সুতা তৈরি করা হয়। ওই সুতায় রঙ করা হয়। পরে রঙ করা সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় চীবর বা কাপড় এবং দান করা হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। আর পুরো কাজটা শেষ করতে হয় একদিনের মধ্যে। সেই জন্যই এই কাপড় দান কঠিন চীবর দান নামে পরিচিত।’

খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মপুর আর্যবন বিহারের উপাধ্যক্ষ সমাধি নন্দ স্থবির ভান্তে বলেন, ‘বৌদ্ধ ধর্মে চীবর দান সর্বোচ্চ দান। বুদ্ধের মহা উপাসিকা বিশাখা এই কঠিন চীরব দান প্রর্বতন করেন। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, এই দানের ফল অপরিসীম। কঠিন চীবর দানোৎসব দিনে শুধু চীবর দান নয়, সঙ্গে থাকে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ড দানসহ নানাবিধ দান। প্রত্যেক বিহারে সকাল থেকে বুদ্ধ পূজা, ফুল পূজা স্বধর্ম শ্রবণসহ বিশ্বশান্তি তথা সব প্রাণীর হিত, সুখ ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হচ্ছে।’

মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই চীবর দানের মাধ্যমে কায়িক, বাচনিক ও মানসিক বাসনা পূর্ণ হবে এবং এটি দেশ-জাতির মঙ্গল বয়ে আনবে– এমনটাই প্রত্যাশা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের।