মণিপুরে পদযাত্রার অনুমতি পেলেন না রাহুল গান্ধী, সহিংসতার কথা স্বীকার মুখ্যমন্ত্রীর - Southeast Asia Journal

মণিপুরে পদযাত্রার অনুমতি পেলেন না রাহুল গান্ধী, সহিংসতার কথা স্বীকার মুখ্যমন্ত্রীর

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর সরকার আজ বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায়যাত্রা’র অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল পূর্ব জেলার হাত্তা কাংজেইবুং এলাকায় এ পদযাত্রা করতে চেয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। মণিপুরে কয়েক দিন ধরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কুকি জঙ্গি সংগঠন এবং ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ জোরালো হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধীকে পদযাত্রার অনুমতি দিল না মণিপুর সরকার।

এদিকে মণিপুরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে মোরে-মিয়ানমার সীমান্তে যে ৭২ ঘণ্টা ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলেছে, তা স্বীকার করে নিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং।

রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায়যাত্রা’ মণিপুরে শুরু হয়ে আগামী ২০ মার্চ মুম্বাইতে শেষ হওয়ার কথা। তার আগে এটি ১৫টি রাজ্য অতিক্রম করবে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে রাহুল গান্ধী তাঁর এই দ্বিতীয় যাত্রার পরিকল্পনা করেছেন।

কিন্তু মণিপুর রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি কেশাম মেঘচন্দ্র আজ মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং মণিপুরের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতিকে পদযাত্রার অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর, সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) নেতৃত্বে দলটি একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থানে অনুষ্ঠানটি শুরু করবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মেঘচন্দ্র বলেন, তাঁর দল ২ জানুয়ারি পদযাত্রার জন্য একটি আবেদন দাখিল করেছিল। বলা হয়েছিল যে ১৪ জানুয়ারি মণিপুর থেকে পদযাত্রা শুরু হবে। হেঁটে ও গাড়িতে ১ দিনে ৪ জেলায় ১০৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পরিকল্পনা ছিল রাহুলের।

সরকারের অবস্থানের নিন্দা করে মেঘচন্দ্র বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কারণ, সরকারি দপ্তর থেকে তাঁদের আবেদনের কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে আপাতত কংগ্রেসকে মণিপুরে কোনো ধরনের প্রচারণার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করলেন সহিংসতার কথা
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সোমবার (০৮ জানুয়ারি) রাতে মোরেতে সশস্ত্র জঙ্গিরা প্রবল গুলিবর্ষণ করেছে ও বোমা হামলা চালিয়েছে। এ কারণে এখন রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে যৌথ কমান্ড গড়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে যে বন্দুকযুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০ জন সোমবার পর্যন্ত আহত হয়েছেন। কুকি সমাজের সামাজিক সংগঠন কুকি-ইনপির তরফে বলা হয়েছে, তাদের সমাজের মানুষকে সেনা অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।

মণিপুরে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে বিরাজমান এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর কোর-৩-এর অধীনে থাকা জেনারেল অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইচ এস সাহি গতকাল মণিপুরের টেংনোপাল জেলার মোরেতে সেনাবাহিনীর আসাম রাইফেলসের একটি ইউনিট পরিদর্শন করেন। তিনি একটি সেনা অভিযানেরও নেতৃত্ব দেন।

কুকি-জো আদিবাসীদের হত্যার অভিযোগ
অন্যদিকে এই অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয় কুকি-জোমি সমাজের মহিলারা কাংপোকপি জেলায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। সোমবারের পর আজ বুধবারও তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি টেলিফোনে প্রথম আলোকে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিক্ষোভকারী মহিলা বলেন, অঞ্চল থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী প্রত্যাহার না করার কারণে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ।

নারী বিক্ষোভকারীরা মোরে থেকে প্রধানত সংখ্যাগুরু মেইতেই কমান্ডোদের সরানোর দাবির পাশাপাশি উপত্যকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন আফসপা নতুন করে বহাল করার দাবিও তোলেন।

সোমবার মণিপুরের সীমান্ত শহর মোরেতে আগের ৭২ ঘণ্টার সংঘর্ষ মণিপুরে আবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। স্থানীয় মানুষ আবার নতুন করে তাঁদের ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন মোরের হিল ট্রাইবাল কাউন্সিলের (ইউনিট 8) চেয়ারম্যান কে মিনলুন টুথাং।

স্থানীয় প্রচারমাধ্যমকে মিনলুন টুথাং বলেন, ‘সোমবার নিউ মোরে, লাংকিচোই ও জিয়ন ভেং—এই তিন জায়গায় গুলি চালানো হয়েছে। জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মাইনসহ কুকি গ্রামে গুলি চালায়। গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর প্রায় ২০০ গ্রামবাসী তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান। আমরা বর্তমানে শহরের অন্য অংশে একটি ভবনে অবস্থান করছি। আমাদের বলা হয়েছে যে গুলি চালানো বন্ধ হয়েছে, কিন্তু ক্রসফায়ারে পড়তে চাই না। তাই ঘরে ফিরছি না।’

কুকি সমাজের সর্বোচ্চ সামাজিক সংগঠন কুকি ইনপির (টেংনোপাল শাখা) মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমে বলেন যে মণিপুর পুলিশ কমান্ডোদের পক্ষপাত করে কুকি-জো সমাজের মানুষকে হত্যা করছে।