ভারতের কৃষক আন্দোলনে উপর্যুপরি টিয়ার গ্যাসে একজন নিহত - Southeast Asia Journal

ভারতের কৃষক আন্দোলনে উপর্যুপরি টিয়ার গ্যাসে একজন নিহত

ভারতে কৃষক বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনেও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, আহত ১৫০
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের আন্দোলনরত কৃষকরা তাদের ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি গতকাল বুধবার আবারও শুরু করেছেন। এদিন হরিয়ানা-পাঞ্জাব সীমান্তের রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। নিরাপত্তা বাহিনী কৃষকদের সরিয়ে দিতে উপর্যুপরি টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ হাজার কৃষক একসঙ্গে ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লি অভিমুখে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এদিন নামানো হয় আধা সামরিক বাহিনী। উপায় না দেখে কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল আবারও আলোচনার বসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ দেখেন না কৃষকরা।

ভারতের গণমাধ্যমের খবর, পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে কৃষকরা রাস্তায় ট্রাক্টরগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে দিল্লি রওনা হওয়ার বাধা টপকাতে চাচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পাঁচ বার বৈঠকে বসেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রস্তাব মানতে নারাজ কৃষকরা। কৃষকদের বক্তব্য, সরকার আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরাতে ওইসব প্রস্তাব দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি), পেনশন বীমা, কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারসহ নানা দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের অন্যতম কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের গতকাল বলেন, ‘আমরা নেতাদের বদলে কোনো তরুণ-যুবাকে সামনে পাঠাইনি। নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়েছে। কিন্তু আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। সবাই তা দেখেছে। আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করিনি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।’

কৃষকরা তাদের ট্রাক্টরগুলোতে লোহার শিট বসিয়েছে। পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাস থেকে বাঁচতেই এই কৌশল নিয়েছেন কৃষকরা। সেই সঙ্গে পুলিশের জলকামান প্রতিরোধ করতেও কৌশল নিয়েছেন তারা।

কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ আটকাতে আগে থেকে রাস্তায় সিমেন্টের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে। শিপিং কন্টেইনার দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে গোটা রাস্তা। হাইওয়েতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে পেরেকের আস্তরণ। অম্বালার ঘর্ঘরা নদীর দুই পাড়ে পুলিশ কার্যত দুর্গ বানিয়ে রেখেছে যাতে শম্ভু সীমানা পার হতে না পারেন কৃষকরা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরিয়ানায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে আন্দোলন রুখতে ‘কঠোর’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ বলছে, ‘আন্দোলনকারী কৃষকরা যদি জোরপূর্বক ব্যারিকেড ভাঙতে চান, তাহলে পুলিশেরও আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

আবার দিল্লিতে যাতে কৃষকরা ঢুকতে না পারেন, তারও প্রস্তুতি নেওয়া হয় আগে থেকে। রাজধানীর তিন সীমানা চত্বরে নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করার ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

  • আন্তর্জাতিক অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন