ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে সীমান্তবর্তী জঙ্গিরা লাভবান হবে, শঙ্কা পাকিস্তানের

ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে সীমান্তবর্তী জঙ্গিরা লাভবান হবে, শঙ্কা পাকিস্তানের

ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে সীমান্তবর্তী জঙ্গিরা লাভবান হবে, শঙ্কা পাকিস্তানের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ইরানে কর্তৃত্বহীনতা দেখা দিলে তার সুযোগ নিতে পারে পাক-ইরান সীমান্তে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জিহাদিপন্থী গোষ্ঠীগুলো। বুধবার (১৮ জুন) হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আসিম মুনিরের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তারা কোনও কিছুতেই খুশি নয়’—ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝাতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ওই বৈঠকে ইরান নিয়ে আলোচনা হয় এবং উভয় নেতা সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাকিস্তান ইরানে ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলী খান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ইরানে যা ঘটছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুতর একটি ইস্যু। এটি সমগ্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলছে এবং আমাদের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ছে।’

এদিকে সীমান্তবর্তী কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী এই অস্থিরতাকে স্বাগত জানিয়েছে।

ইরানি জিহাদিপন্থী গোষ্ঠী জইশ আল-আদল (জেএএ)— বলেছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত এক চমৎকার সুযোগ। পাকিস্তানভিত্তিক এবং ইরানের জাতিগত বালুচ ও সুন্নি মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই গোষ্ঠীটি।

গত ১৩ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘জইশ আল-আদল ইরানের সকল জনগণের প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বিশেষ করে বেলুচিস্তানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।’

অন্যদিকে পাকিস্তান আশঙ্কা করছে, ইরানভিত্তিক পাকিস্তানি বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও এখন হামলা জোরদার করতে পারে।

পাকিস্তানের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, ‘এখানে শাসনহীন অঞ্চল সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর জন্য উপযুক্ত প্রজননভূমি হতে পারে।’

তালেবান-শাসিত আফগানিস্তান এবং চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের সীমান্ত অস্থিতিশীল। তারা ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্তে আরেকটি উত্তপ্ত ফ্রন্ট চায় না।

পাকিস্তান ও ইরানের ৫৬০-মাইল দীর্ঘ সীমান্তের দুপাশেই ইরান ও পাকিস্তানবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। যখন ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বোমা হামলা চালাচ্ছে, তখন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বারবার ইরানি সরকারকে অস্থিতিশীল করার কিংবা পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

ইরান থেকে ছড়িয়ে পড়া বিশৃঙ্খলার শঙ্কার পাশাপাশি, পাকিস্তান উদ্বিগ্ন আরেকটি দেশের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল যে নজির তৈরি করেছে তা নিয়েও।

ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চল জাতিগত বালুচ জনগোষ্ঠী দ্বারা অধ্যুষিত। এরা উভয় দেশেই সংখ্যালঘু এবং দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের অভিযোগ করে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালিয়ে আসছে। পাকিস্তান অংশটিকে বলা হয় বেলুচিস্তান প্রদেশ। আর ইরানের অংশটির নাম সিস্তান-বালুচিস্তান।

ইসরায়েলের বোমা হামলার আগে পর্যন্ত ইরান ছিল পাকিস্তানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের ঘনিষ্ঠ। এমনকি গত বছর পাকিস্তান ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে বালুচ জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিমান হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর এই জোটগুলোর হিসাব বদলে গেছে। কারণ ভারত এখনও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা করেনি।

চীনও বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। কারণ অঞ্চলটি পাকিস্তানে চীনের বহু বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু, বিশেষ করে চীনা নিয়ন্ত্রিত গওয়াদার বন্দরের কারণে। বেলুচ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো অতীতে পাকিস্তানে চীনা প্রকল্প ও কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

ইরান সীমান্তের পক্ষ থেকে তেহরান বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, উপসাগরীয় দেশসমূহ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানবিরোধী বালুচ গোষ্ঠীগুলোর পেছনে থাকার অভিযোগ করেছে।

ইসলামাবাদ-ভিত্তিক বিশ্লেষক সিমবাল খান বলেন, এই ভিন্ন ভিন্ন বালুচ গোষ্ঠীগুলো একত্রিত হয়ে ‘গ্রেটার বেলুচিস্তান’ আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, যা পাকিস্তান ও ইরানের বালুচ অঞ্চলকে একত্র করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।