বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম ও পোশাক, শিগগির প্রজ্ঞাপন জারি
![]()
নিউজ ডেস্ক
এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম ও কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাহিনীটির নতুন নাম হবে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
উপদেষ্টা জানান, বাহিনীটির পোশাক ও কার্যক্রমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। খুব শিগগির এ-সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২০০৪ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে র্যাবের বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব ও এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ ছাড়া সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনী বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাহিনীটির অতীত কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো মাথায় রেখে একে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স, ইতালি বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এলিট ফোর্স যেভাবে কাজ করে, সেই আদলে এসআইএফকে সাজানো হবে।
সরকার জানিয়েছে, র্যাব থেকে এসআইএফে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানবাধিকার রক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও বাহিনীর আধুনিকায়নই হবে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। দৃশ্যমান পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাহিনীর পোশাক, লোগো ও পরিচয়পত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কোনো অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর এলিট ফোর্সের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাব বিলুপ্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিল বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, র্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সংস্কারের সুযোগ নেই। তিনি একে ‘গ্যাংগ্রিন’-এর সঙ্গে তুলনা করে বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সরকার এটিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত না করে নতুন নাম ও কাঠামোর মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এসআইএফকে এমনভাবে গঠন করা হবে, যেন তা আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে কাজ করে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পুলিশের মনোবল এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। দিন-তারিখ ঘোষণার পর পরিস্থিতি উৎসবমুখর থাকবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
এদিকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী জানিয়েছেন, নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে গেছেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।