বাংলাদেশি বাজার হারিয়ে ভয়াবহ ধসের মুখে পশ্চিমবঙ্গের আলু শিল্প, ২২শ কোটি টাকার ক্ষতি

বাংলাদেশি বাজার হারিয়ে ভয়াবহ ধসের মুখে পশ্চিমবঙ্গের আলু শিল্প, ২২শ কোটি টাকার ক্ষতি

বাংলাদেশি বাজার হারিয়ে ভয়াবহ ধসের মুখে পশ্চিমবঙ্গের আলু শিল্প, ২২শ কোটি টাকার ক্ষতি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের আলু বাজারে এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে রাজ্যে আলুর রেকর্ড পরিমাণ ফলন, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়া— এই দুই সাঁড়াশী চাপে আলু চাষি ও হিমঘর মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাজারে আলুর দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় বর্তমানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২,২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ট্রাকে করে ১,০০০ মেট্রিক টন আলু বাংলাদেশের বাজারে আসে। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বৈধ পথে আলু রফতানি প্রায় বন্ধ। ফলে রাজ্যে আলুর মজুত বাড়ছে কিন্তু বিক্রির পথ সংকুচিত হচ্ছে।

এ বছর পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে আলুর ফলন গতানুগতিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি হয়েছে। হেক্টর প্রতি ফলন ৩০ টনের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে আসায় আলুর দাম ব্যাপকভাবে পড়ে গেছে।

রাজ্যটির দক্ষিণবঙ্গের হিমঘরগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৭২ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৯০০ টাকা হলেও, খোলা বাজারে আলুর দর নেমে এসেছে ৬০০ টাকায়। এই বিশাল পার্থক্যের কারণেই কয়েক হাজার কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে সেখানকার ব্যবসায়ীদের।

২০১৩ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলু বাইরে পাঠানোয় কড়াকড়ি করার ফলে ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলো নিজস্ব আলু চাষ শুরু করেছে। এর ফলে ওড়িশা ও আসামের বাজারে পশ্চিমবঙ্গের আলুর চাহিদা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গেছে।

কলকাতায় আয়োজিত অ্যাসোসিয়েশনের ৬১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতি সুনীল কুমার রানা জানান, ‘‘বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার ফলে হিমঘর চালানো এখন অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।’’ গত বছর যে লোডিং চার্জ বস্তা প্রতি ৮.৫৭ টাকা ছিল, এবার তা বেড়ে ১১ টাকা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব রেখেছে। সংগঠনটি অন্য রাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবহণ ভরতুকি প্রদান, মিড-ডে মিল এবং রেশন ব্যবস্থায় আলুর অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সাথে বায়ার-সেলার মিটিংয়ের আয়োজন এবং আলুর প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচরাম মান্না জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি নজর রাখছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কম জলীয় অংশযুক্ত আলু চাষ করতে পারলে ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।