ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সাথে সংযোগকারী মিজোরামের কৌশলগত লেংটেকাই সেতুর উদ্বোধন

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সাথে সংযোগকারী মিজোরামের কৌশলগত লেংটেকাই সেতুর উদ্বোধন

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সাথে সংযোগকারী মিজোরামের কৌশলগত লেংটেকাই সেতুর উদ্বোধন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ত্লাওং নদীর ওপর নির্মিত লেংটেকাই সেতুর উদ্বোধন করেছেন। ‘ফেইথ ব্রিজ’ নামে নামকরণ করা এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৮৩ কোটি রুপি। ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।

১০০ মিটার দীর্ঘ ও ৭ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থের সেতুটির দুই পাশে ১ দশমিক ৫ মিটার করে ফুটপাত রয়েছে। প্রায় ৩৮৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম এ সেতু অঞ্চলের পরিবহন সক্ষমতা ও নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সেতু স্থাপনের সময় পুলি বিকল হয়ে বড় ধরনের বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে নতুন করে কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সফলভাবে সেতুটি স্থাপন করা হয়। একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ সংযোগ সড়কসহ সব কাজ শেষ হয়।

তিনি বলেন, নতুন সেতুটি পুরনো বেইলি ব্রিজের বিকল্প হিসেবে নির্মিত হয়েছে, যা কম ভারবহন ক্ষমতা ও ঘন ঘন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করত। নতুন কাঠামো চালু হওয়ায় আর ভারসীমা বা পণ্য খালাসের প্রয়োজন হবে না, ফলে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

কৌশলগত দিক থেকে সেতুটির গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এটি মামিত জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। প্রায় ৯০টি গ্রামের প্রায় ৮৫ হাজার মানুষের এ জেলায় কৃষি, বিশেষ করে রাবার চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। সেতুটি মিজোরামকে ত্রিপুরা রাজ্য এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সড়কপথে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে। পাশাপাশি লেংপুই বিমানবন্দর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হবে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে মামিত–বৈরাবি করিডরের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, মিজোরামে সড়ক ঘনত্ব জাতীয় গড়ের তুলনায় কম (প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৪৬ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার), তাই অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

সেতুটি নির্মাণ করেছে পড্ডার ইনফ্রা টেক। নকশা প্রণয়ন, তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে। নির্মাণকাজে কঠোর মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয় এবং সমাপ্তির পর পূর্ণাঙ্গ লোড টেস্টের মাধ্যমে সব শ্রেণির যান চলাচলের উপযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।