বান্দরবানে ইফতার সামগ্রী নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াল সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পবিত্র মাহে রমজান-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে জেলা জুড়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার ও সেহেরি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এই মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ গভীর প্রশংসা জানিয়েছেন এবং সেনাবাহিনীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়বোধকে উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বান্দরবান সেনানিবাসের এমডিএস মাঠে পরিচালিত ওই কার্যক্রমে ১০০টি দুস্থ মুসলিম পরিবার এবং ৬টি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঝে প্রয়োজনীয় ইফতার ও সেহেরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, চিনি, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, মশুর ডাল, আলু ও চাল। এগুলো ছিলো এমন পরিবার ও প্রতিষ্ঠানদের জন্য যারা দৈনন্দিন জীবনে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে পবিত্র রমজানের ইফতার ও সেহেরি আয়োজন করতে ব্যর্থ হতেন।
বান্দরবান রিজিয়নের পক্ষে রিজিয়নের স্টাফ অফিসার মেজর পারভেজ রহমান উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন।

এসময় মেজর পারভেজ জানান, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধুমাত্র পাহাড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই থেমে থাকে না; পাহাড়বাসীর যেকোনো দুর্যোগ বা মানবিক প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকে। এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ আমাদের দায়িত্বের অংশ।”
পুরো রমজান মাসজুড়ে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রমজানের শুরুতে ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়রা জানান, এমন উদ্যোগে তারা শুধু খাদ্যসামগ্রীই পায়নি, বরং সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা ও সেবামূলক মনোভাব দেখেও গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। অনেকেই বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের জন্য কেবল একটি নিরাপত্তার নাম নয়, তারা আমাদের কষ্ট ভাগাভাগি করে এমন মানবিক কাজের মাধ্যমে সত্যিকারের পাশে দাঁড়ান।”

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, বান্দরবান সেনা রিজিয়নের এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি দৃঢ় সাড়া সৃষ্টি করেছে। প্রতি বছরই সেনাবাহিনী এই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা শুধু দুস্থদের জীবনযাত্রায় সহায়তা করছে না, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধও জাগ্রত করছে।
প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বান্দরবান ও দেশের অন্যান্য দূরবর্তী অঞ্চলে এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এটি স্থানীয়দের মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও দৃঢ় করছে, এবং দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী কতটা মানবিকভাবে দায়িত্বশীল, তার সরাসরি প্রমাণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।