মিয়ানমারে ৫০০’র বেশি প্রতিরোধ যোদ্ধার আত্মসমর্পণের দাবি, ‘প্রচার কৌশল’ বলে অভিযোগ
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারে ৫০০-এর বেশি বিরোধী গেরিলা যোদ্ধা জান্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে এ ঘটনাকে একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ‘প্রচার কৌশল’ বলে অভিহিত করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপি সাংবাদিকরা একটি নিরস্ত্রীকরণ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হন।
২০২১ সালে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটি গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত।
এই সংঘাতে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অভ্যুত্থানের পর গঠিত গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধাদের ব্যাটালিয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
মধ্যাঞ্চলের মান্দালয় শহরে এএফপি সাংবাদিকরা দেখেন, ঐতিহাসিক রয়্যাল প্যালেসের প্রাঙ্গণে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে শত শত যোদ্ধা জড়ো হয়েছেন। তাদের সামনে টেবিলে বন্দুক, গুলি ও ম্যাগাজিনের স্তূপ রাখা ছিল।
মিয়ানমারের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং থেই সমবেত যোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা না বুঝে সেখানে গিয়েছিলে, কিন্তু এখন তোমরা তোমাদের বিবেক ফিরে পেয়েছ।”
তিনি বলেন, “তোমরা নিজেরাই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছ। জঙ্গলে বসবাস সিনেমা বা অন্যদের কথার মতো নয়। আলোতে থাকা একজন মানুষ ভয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে।”
সমবেত যোদ্ধাদের মধ্যে নারী-পুরুষ উভয়ই ছিলেন এবং তাদের পরনে ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্যামোফ্লাজ ও সাধারণ ইউনিফর্ম। অনেকের পোশাকে মান্দালয় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর লোগো দেখা যায়, যা গণতন্ত্রপন্থী শক্তিশালী ব্যাটালিয়নগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।
তবে মান্দালয় পিডিএফের এক মুখপাত্র বলেন, “এ ধরনের সংখ্যায় আমাদের পিডিএফ সদস্যদের আত্মসমর্পণের কোনো ঘটনা নেই,” এবং তিনি এটিকে প্রচারণামূলক আয়োজন বলে ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও বলেন, “কিছু মানুষ আত্মসমর্পণ করে, কিন্তু পুরো ইউনিফর্ম ও ব্যাজসহ আত্মসমর্পণের ঘটনা খুবই বিরল।”
“আমরা দেখেছি কিছু মানুষ আমাদের ইউনিফর্ম পরেছে, কিন্তু পরার ক্ষেত্রে ভুল রয়েছে—যেমন ক্যাপ ইউনিফর্মের সঙ্গে মিলছে না,” যোগ করেন তিনি।
সামরিক বাহিনী উপস্থিত যোদ্ধাদের সঙ্গে গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেয়।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “আমি প্রথমে তাদের সঙ্গে যোগ দিই কারণ আমি জান্তাকে পছন্দ করতাম না এবং ভেবেছিলাম বিপ্লব জয়ী হতে পারে।” তিনি জানান, তার স্ত্রী ও দুই মেয়েও পরে পিডিএফে যোগ দেন।
৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বলেন, “তাদের নেতৃত্ব আমাদের প্রত্যাশার থেকে ভিন্ন। এজন্যই আমরা ফিরে এসেছি।”
পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) নামের ব্যাটালিয়নগুলো জান্তা উৎখাতের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হলেও তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে অভিজ্ঞ জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে লড়াইয়ের মাধ্যমে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবেশী চীনের হস্তক্ষেপে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জাতিগত গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, যারা আগে বিরোধী শক্তির প্রধান ভরসা ছিল। এর ফলে মান্দালয় অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়েছে গণতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব যুদ্ধবিরতি ইঙ্গিত দেয় যে, মিয়ানমারে কিছুটা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেইজিং সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।