স্ক্যাম সেন্টার ইস্যুর মধ্যে নেপিডোতে থাই সেনাপ্রধানের বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

স্ক্যাম সেন্টার ইস্যুর মধ্যে নেপিডোতে থাই সেনাপ্রধানের বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

স্ক্যাম সেন্টার ইস্যুর মধ্যে নেপিডোতে থাই সেনাপ্রধানের বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

থাইল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল উক্রিস বুনতানন্দা বুধবার নেপিডোতে পৌঁছে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে অনলাইন প্রতারণা চক্রের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এই বৈঠকে জান্তার উপপ্রধান সোয়ে উইন, নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান ইয়ে উইন উ এবং জেনারেল স্টাফ প্রধান কিয়াও সোয়ার লিন উপস্থিত ছিলেন।

জান্তা নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মিন অং হ্লাইং ও উক্রিস সীমান্ত স্থিতিশীলতা, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠকের প্রস্তুতি, অবৈধ বাণিজ্য ও মাদক পাচার রোধ, সীমান্তবর্তী কুয়াশা দূষণ এবং স্ক্যাম সেন্টার নেটওয়ার্ক দমনে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন—যে বিষয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।

একই সময়ে ওয়াশিংটনে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে জানান, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের থাই সীমান্তবর্তী এলাকায় বড় বড় স্ক্যাম সেন্টার কমপাউন্ড গড়ে উঠেছে, যেগুলোর অনেকগুলোই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সহায়তায় পরিচালিত বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, “এসব বাস্তব কমপাউন্ড, যেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আমেরিকান ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এফবিআই আঞ্চলিক সরকারগুলোর সঙ্গে কাজ করে বহু স্ক্যাম সাইটের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করেছে।

প্যাটেল অঙ্গীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্র “এসব দেশে গিয়ে প্রতিটি স্ক্যাম সেন্টার কমপাউন্ড বন্ধ করে দেবে।”

ব্যাংককে এফবিআই কার্যালয় থাই পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে স্ক্যাম সেন্টারের দিকে দূরবীন দিয়ে নজরদারি চালানোর এজেন্টদের ছবি প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে থাই ও মিয়ানমারের সামরিক নেতারা দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশের সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী অধিবেশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনুতিন চার্নভিরাকুল পুনরায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, আর মিয়ানমারে আগামী সপ্তাহে সামরিক নিয়ন্ত্রিত সংসদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে—যেখানে মিন অং হ্লাইংয়ের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সে ক্ষেত্রে সোয়ে উইন ও ইয়ে উইন উ সেনাপ্রধান হিসেবে তার উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, যদিও বর্তমানে ইয়ে উইন উ-এর পক্ষেই পাল্লা ভারী বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠক ঘিরে পর্যবেক্ষকদের নজরে আসে একটি ব্যতিক্রমী বিষয়। সেনাপ্রধান হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়া কিয়াও সোয়ার লিন আলাদাভাবে উক্রিসকে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন, যা জান্তার শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে পরিবর্তনশীল সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি জান্তার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে থাইল্যান্ড বেশ সক্রিয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থাই বিমানবাহিনীর প্রধান সাকেসান কান্থা নেপিডোতে মিন অং হ্লাইং ও ইয়ে উইন উ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরে মিয়ানমারের সমকক্ষ টুন অং-এর সঙ্গে সম্মাননা গার্ড পরিদর্শন করেন। এছাড়া থাই রাষ্ট্রদূত, এক জ্যেষ্ঠ থাই সেনা কর্মকর্তা এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জান্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে এমন এক সময়ে, যখন থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও চীন যৌথভাবে স্ক্যাম সেন্টার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি, মিয়াওয়াদি অঞ্চলে জান্তা বাহিনী ও কারেন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষের কারণে কয়েক মাস ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে আগ্রহী ব্যাংকক, যার আর্থিক মূল্য হাজার কোটি বাথ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।