আসামে পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আসামে পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আসামে পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের আসামে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার গভীর রাতে রাজ্যের তিনসুকিয়া জেলায় পুলিশ কমান্ডোদের একটি ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এই হামলার সঙ্গে উগ্রপন্থী সংগঠন United Liberation Front of Asom (Independent)-এর জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাস সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আগামী ৯ এপ্রিল আসাম বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে আসাম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তবর্তী লেখাপানি থানার জাগুন এলাকার ১০ মাইল এলাকায় অবস্থিত পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্প লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা একের পর এক গ্রেনেড ও মর্টার নিক্ষেপ করে এবং অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।

এ ঘটনায় অন্তত চারজন পুলিশ কমান্ডো আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে Dibrugarh Medical College and Hospital-এ ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা অন্তত পাঁচটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পাশাপাশি ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। তবে হামলায় ক্যাম্পের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার পরপরই পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর থেকেই আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ধরতে পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আসামে পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করল সেনাবাহিনী

তিনসুকিয়া জেলার জাগুন এলাকায় পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে সন্দেহভাজন United Liberation Front of Asom (Independent) জঙ্গিদের হামলার পর সেখানে পড়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। রবিবার ভোররাতে সংঘটিত ওই হামলার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

হামলার পর ঘটনাস্থলে আরপিজি (RPG) ও ইউবিজিএল (UBGL) রাউন্ডসহ বিস্ফোরক অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়, যা আশপাশের বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, যার মধ্যে রেড শিল্ড স্যাপারস অন্তর্ভুক্ত ছিল, আসাম রাইফেলসের সঙ্গে সমন্বয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং প্রচলিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করে নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদগুলো জনবসতি থেকে দূরে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

এদিকে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, যিনি রবিবার হাফলংয়ে অবস্থান করছিলেন, এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ইতোমধ্যে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দায় স্বীকার উলফার 

“অপারেশন বুজোনি” নামে পরিচিত অভিযানের মাধ্যমে ULFA(I)-এর সশস্ত্র সদস্যরা চালায় বলে দায় স্বীকার করেছে। এই হামলাকে তারা “সেনাবাহিনী অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার লক্ষ্য ছিল আসাম পুলিশের ওপর আক্রমণ।

এক বিবৃতিতে ULFA(I) দাবি করেছে যে, ২০২১ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তারা রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে হামলা থেকে বিরত ছিল। তবে তারা অভিযোগ করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই অপ্রাতিষ্ঠানিক বোঝাপড়া লঙ্ঘন করেছে।

গ্রুপটি আরও জানিয়েছে যে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তাদের অনেক সদস্য নিহত বা গ্রেফতার হয়েছে এবং সমর্থকরা ধারাবাহিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া তারা জুলাই ২০২৫ সালে রিপোর্টকৃত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উল্লেখ করেছে, যা Unified Command Structure-এর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল এবং এতে তাদের সিনিয়র নেতা ও সদস্যদের মৃত্যু হয়।

এই সর্বশেষ হামলাকে “সতর্কবার্তা” হিসেবে উল্লেখ করে গ্রুপটি জানিয়েছে যে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযান চললে পরিণতি বহন করতে হবে।

আসামে পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্পে গ্রেনেড হামলা, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পুলিশ প্রধানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

আসামের পুলিশ মহাপরিদর্শক হারমিট সিং আজ সোমবার আসাম পুলিশ কমান্ডো ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। হামলার ঘটনায় উত্তর আসামে বিদ্রোহী কার্যকলাপ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তিনি হামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিকল্পনার জন্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক তিনসুকিয়া জেলা সদর দফতরে সফর করেন এবং সেখানে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চ-স্তরের বৈঠক করেন, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।