অগ্নিদগ্ধ শিশু নিশনা চাকমার চিকিৎসায় পুনরায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করলো সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন
![]()
নিউজ ডেস্ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলার বর্মাছড়ি ইউনিয়নের কান্দব পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হওয়া ৮ বছর বয়সী শিশু নিশনা চাকমার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পুনরায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়নের আওতাদীন লক্ষীছড়ি জোনের পক্ষ দ্বিতীয় দফায় আর্থিক এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শিশু নিশনা গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
জানা যায়, লক্ষছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি ইউনিয়নের কান্দব পাড়ায় গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রান্নার সময় মাটির চুলার আগুনে শিশুটির পোশাকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ দগ্ধ হয় এবং শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে লক্ষীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোনের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিশনার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হলেও চিকিৎসা ব্যয় অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তার পরিবার আর্থিক চাপের মধ্যে আছে। এমতাবস্থায় মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে লক্ষীছড়ি জোন পুনরায় আজ শনিবার (২৮ মার্চ) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
বর্মাছড়ির অগ্নিদগ্ধ নিশনা চাকমার পাশে লক্ষীছড়ি জোন, চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা প্রদান
লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুটির চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষ করে রান্নার সময় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খোলা আগুন ব্যবহারে সতর্ক থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
লক্ষীছড়ি জোনের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন এবং শিশুর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তা চেয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাউথইস্ট এশিয়া জার্নাল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়ভাবে সহানুভূতির সাড়া তৈরি হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।