খোদ ভারতেই আদিবাসী ইস্যু উপেক্ষার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে দেয় উসকানি!
![]()
নিউজ ডেস্ক
ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের আগে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী ইস্যু উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। টিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) গোমতী জেলার আম্পি এলাকায় এক নির্বাচনী সমাবেশে এই অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, ভূমি অধিকার, সরাসরি অর্থায়ন এবং কোকবরক ভাষার জন্য লিপি নির্ধারণ—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।

দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, কোকবরক ভাষার লিপি নিয়ে বিজেপির অবস্থানও অসংগতিপূর্ণ। দলটি রোমান লিপির বিরোধিতা করলেও নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের সময় একই লিপি ব্যবহার করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসী বা ‘জনজাতি’ শব্দটিও সরিয়ে দিয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে কাউন্সিলের নাম থেকে ‘ট্রাইবাল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই ঘটনা শুধু ত্রিপুরার উপজাতিদের জন্যই উদ্বেগের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটেও তা গভীর সমালোচনার বিষয়। ভারত সরকারের বা ভারতের বিভিন্ন এনজিও এবং স্থানীয় সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদের ‘আদিবাসী’ বলে পরিচিতি দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করছে। এই ধরনের সম্বোধন প্রায়শই উসকানি সৃষ্টি করে এবং পাহাড়ি এলাকায় অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু খোদ ভারতের নিজের দেশের আদিবাসীদের স্বীকৃতি এবং অধিকারকে তারা এভাবে বিবেচনা করছে না। এই প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা নিজেও বহুবার পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়কে আদিবাসী দাবি করে বহু উসকানি দিয়েছেন।
প্রদ্যোতের অভিযোগে দেখা যায়, বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে এ ধরনের উপেক্ষা একই নীতি এবং দ্বৈত মানদণ্ডেরই প্রতিফলন।

প্রদ্যোত দেববর্মা ভোটারদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি সুবিধার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অধিকার ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব আদিবাসী সম্প্রদায়কে দুর্বল করে, যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব ও নীতি প্রণয়নে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি তিনি সরকারকে উদ্দীপ্ত করেছেন আদিবাসী/উপজাতি এলাকায় সড়ক, পানীয় জল এবং শিক্ষার অবস্থা যথাযথভাবে উন্নত করার জন্য।
এ ঘটনা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর জন্যও একটি সতর্কবার্তা। অন্য দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে উপজাতি জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে পরিচিতি দিয়ে উসকানি তৈরি করা হলেও, নিজেদের দেশের আদিবাসীদের স্বীকৃতি এবং মৌলিক অধিকার এভাবে অবহেলিত রাখা চলবে না। প্রদ্যোতের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, আদিবাসী সম্প্রদায়কে স্বশক্তিশালী করে রাখা এবং তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।