চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা নিহতের ঘটনাটি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ!
![]()
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের বাসভবন থেকে নরেন্দ্র ধর নামে এক ভারতীয় কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য, গোপনীয়তা ও নানা প্রশ্ন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি জনসমক্ষে এলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, লাশ উদ্ধারের পর থেকেই ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। নগর পুলিশের উত্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতীয় মিশনের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে “সংবেদনশীল” উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি বলেন, “তারা বিষয়টি মিডিয়ায় না যাওয়ার অনুরোধ করেছিল, তবে আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও বলছে, শুধু তথ্য গোপন রাখাই নয়, প্রাথমিক তদন্ত, আলামত সংগ্রহ ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও এক ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ নেওয়ার পরও ভারতীয় মিশনের কর্মকর্তাদের অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চমেক হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ভারতীয় মিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ করা হয়।
ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভারতীয় মিশনের একজন কর্মকর্তা এসে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ করেন। কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযত ছিলেন এবং অনেক প্রশ্নের উত্তর দেননি।”
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, ভারতীয় পক্ষ শুরু থেকেই ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘লো-প্রোফাইল’ রাখার চেষ্টা করছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ফরেনসিক চিকিৎসকরা।
অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র ধর মানসিক চাপে ছিলেন। তবে সেই চাপের কারণ সম্পর্কে কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বলতে রাজি হননি। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “ঘরের ভেতরে মৃত্যু হলে সাধারণত ঘটনাস্থল সিলগালা করে আলামত সংগ্রহসহ কিছু নির্দিষ্ট প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। কিন্তু এটি বিদেশি মিশনের এলাকা হওয়ায় আমরা পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারিনি।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি মিশনের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটলে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কিছু কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হয়। তবে সেটি তদন্ত প্রক্রিয়াকে সীমাবদ্ধ করার সুযোগ দেয় না বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।
ঘটনাটি ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে অতিরিক্ত গোপনীয়তা, দ্রুত ময়নাতদন্ত শেষ করার চাপ, তদন্তে সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য প্রকাশ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ। একজন বিদেশি মিশনকর্মীর মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, পুরো ঘটনাপ্রবাহ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়েও রহস্য থেকেই গেছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।