রামসু বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী, কর্মসংস্থানের উদ্যোগে নতুন আশার আলো
উক্যক্ষচিং মারমা ও টুনি মারমা।
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামসু বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। অগ্নিকাণ্ডের শোক ও ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পরিবারগুলোর পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের স্থায়ী জীবিকার পথ তৈরি করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে গুইমারা রিজিয়নের অন্তর্গত সিন্দুকছড়ি জোন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে দুর্দিনে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ সুগম করার এই উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্বজন ও বাসিন্দারা।
অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা। এমন কঠিন সময়ে শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, পরিবারের আয়-রোজগারের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে নিহতদের পরিবারের সদস্য টুনি মারমাকে শহীদ লেফটেন্যান্ট মুশফিক স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে উক্যক্ষচিং মারমাকে গুইমারা সেনা হসপিটালে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুধু নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নয়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বা তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের আয় নিশ্চিত করা আরও বেশি কার্যকর। সেই দিক বিবেচনায় সেনাবাহিনীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, আত্মনির্ভরতার একটি নতুন সুযোগও তৈরি করবে। বিশেষ করে স্বজন হারানোর পর যখন একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থান সেই পরিবারকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনরা। তারা জানান, প্রিয়জন হারানোর বেদনা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। তবে এই শোকের সময়ে সেনাবাহিনী তাদের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের যে সুযোগ করে দিয়েছে, তা ভবিষ্যতের কঠিন সময় মোকাবিলা এবং নতুন করে জীবন শুরু করার সাহস জোগাচ্ছে।
নিহতদের স্বজনরা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা আপনজন হারিয়েছেন, একই সঙ্গে পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও বড় ধরনের আঘাত এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যদের চাকরির ব্যবস্থা করা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির বিষয়। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়ের একটি পথ তৈরি হবে এবং তারা ধীরে ধীরে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষের সংকটের সময়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ান। রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সেই মানবিক ভূমিকারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা ও কৃতজ্ঞতা আরও গভীর হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রয়োজনের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান।
রামসু বাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাই কেবল কয়েকজন মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নতুন করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শোকের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানো, সংকটকে নিজেদের দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার এ উদ্যোগ পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।