যুবসমাজকে খেলাধুলায় ফেরাতে বিজিবির উদ্যোগ, বরকলে জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
যুবসমাজকে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ইতিবাচক জীবনধারায় সম্পৃক্ত করতে রাঙামাটির বরকলে বিজিবির ছোট হরিনা জোনে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ছোট হরিনা ব্যাটালিয়ন (১২ বিজিবি)’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘হরিনা জোন কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ স্থানীয় তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ছোট হরিনা জোন ক্রীড়া মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ১২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বোধনী খেলায় মুখোমুখি হয় হরিনা আমতলা ফুটবল একাদশ ও পার্বত্য ছড়া স্পোর্টিং ক্লাব। নির্ধারিত সময়ের খেলায় কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন অধিনায়ক কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাধুলা মানুষের মানসিকতা ভালো রাখে এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে সমাজকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যুবসমাজকে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য এলাকার অনেক তরুণের জন্য নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। একটি নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে দলগত খেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, নেতৃত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে।

বিশেষ করে ফুটবলের মতো জনপ্রিয় দলীয় খেলায় বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও খেলা শেষে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে বিভাজন কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখা। অবসর সময়কে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে কাজে লাগানোর সুযোগ পেলে তরুণদের ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের স্থানীয় পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উঠে আসার পথও তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগও তৈরি করছে। স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে ক্রীড়া আয়োজনের মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়লে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছোট হরিনা জোনের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানা, সুবেদার মেজর মো. মন্টু মিয়াসহ জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান, কার্বারি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এমন একটি ক্রীড়া আয়োজনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয়রা। তাদের মতে, তরুণদের মাঠমুখী করতে নিয়মিত ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হলে একদিকে যেমন স্থানীয় খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মকে অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার সামাজিক পরিবেশও শক্তিশালী হবে। ছোট হরিনা জোনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে স্থানীয় ক্রীড়া চর্চাকে আরও উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।