কয়েক বছরের মধ্যে বদলে যাবে টেকনাফের পর্যটন চেহারা, সাবরাং হবে বিশ্বমানের পর্যটন হাব

কয়েক বছরের মধ্যে বদলে যাবে টেকনাফের পর্যটন চেহারা, সাবরাং হবে বিশ্বমানের পর্যটন হাব

কয়েক বছরের মধ্যে বদলে যাবে টেকনাফের পর্যটন চেহারা, সাবরাং হবে বিশ্বমানের পর্যটন হাব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কয়েক বছরের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের পর্যটন এলাকার চেহারা বদলে দিতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। তিনি বলেছেন, টেকনাফের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়। সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্ককে বিশ্বমানের পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা ও নৌ-যোগাযোগ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে চলমান উন্নয়নকাজ, অবকাঠামোগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যটন হাব গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এ বিষয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে টেকনাফের পর্যটন সম্ভাবনা ও সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্কের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবরাং এলাকায় প্রায় এক হাজার একর জমি নিয়ে পর্যটন পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় এর প্রায় ৫০০ একর জমি ইতোমধ্যে সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০ একর জমি রয়েছে। অবশিষ্ট এই জমিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মুখ্য সচিব আরও বলেন, টেকনাফ থেকে কক্সবাজারে দ্রুত ও সহজ যাতায়াতের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও কাজ করা হবে। পাশাপাশি টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সাবরাং এলাকায় জেটি নির্মাণ করা হলে নৌপথে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে এবং পর্যটকদের যাতায়াতের সময়ও কমবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে সাবরাং এলাকায় একটি জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই বছরের মধ্যে জেটির নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেটি নির্মাণ হলে বড় লঞ্চ ও জাহাজ টেকনাফে ভিড়তে পারবে। এতে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি সাবরাংয়ের পর্যটন সম্ভাবনাও আরও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। তিনি বলেন, সাবরাংসহ টেকনাফে যেসব হোটেল, মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠবে, সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পর্যটন অবকাঠামোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে পার্কের চলমান উন্নয়নকাজ, অবকাঠামো, পর্যটন সুবিধা বৃদ্ধি, জেটি নির্মাণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টেকনাফের পর্যটন অবকাঠামোর দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে পরিদর্শন শেষে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দীন, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সদস্য (শিল্পাঞ্চল) সালেহ আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামিউল জামান, বেপজার মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) খন্দকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আল-মান্নান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বেপজার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আহমেদ এবং কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. নুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা পরিদর্শন দলে ছিলেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *