লক্ষীছড়িতে সেনাবাহিনীর আয়োজনে সম্প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রয়াসের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লক্ষীছড়ি জোন আয়োজিত “সম্প্রীতি পুরুষ ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬”-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠান ঘিরে লক্ষীছড়ি উপজেলায় ছিল উৎসবের আমেজ।

পাহাড়ে শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বৃহত্তর লক্ষীছড়ি এলাকা থেকে মোট ২২টি দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়।
দীর্ঘ প্রতিযোগিতা শেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় তুল্যাকারবারি পাড়া মনোঘর ক্লাব ও দেওয়ান পাড়া একঝোদা ভালেদি একাদশ সংঘ।

অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১-০ গোলে জয়লাভ করে তুল্যাকারবারি পাড়া মনোঘর ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। মাঠে উপস্থিত প্রায় দুই হাজার দর্শক প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে খেলা উপভোগ করেন। পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টকে পরিণত করে সম্প্রীতির এক মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ২৪ আর্টিলারি ব্রিগেড ও গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ নুরুল আমিন।

এসময় প্রধান অতিথি চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের অধিনায়কদের হাতে ট্রফি ও প্রাইজমানির চেক তুলে দেন এবং অংশগ্রহণকারী সকল খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানান।
সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সুদৃঢ় করতে এবং পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট পাহাড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে লক্ষীছড়ি, মাটিরাঙ্গা ও সিন্দুকছড়ি জোনের দলগুলোকে নিয়ে রিজিয়ন পর্যায়ে বৃহত্তর ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফাইনাল খেলায় অন্যান্যদের মাঝে লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খান, সিন্দুকছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস্ আজিজি, লক্ষীছড়ি জোন উপ-অধিনায়কসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তারা গুইমারা রিজিয়ন ও লক্ষীছড়ি জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সংহতি জোরদার এবং যুবসমাজকে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।