পানছড়িতে ফুটপাত দখলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ, সড়কেই হাঁটছেন পথচারীরা; দুর্ঘটনার ঝুঁকি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ফুটপাত দখলের প্রবণতা। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাত এখন ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার করছেন। দোকানের মালামাল, অস্থায়ী দোকান, নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন স্থাপনা ফুটপাতজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় শিশু, নারী, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েছে, তেমনি বাজার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানছড়ি বাজার থেকে লোগাং ও গৌরাঙ্গপাড়া সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার ও ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের অনেক ব্যবসায়ী ফুটপাতের ওপর রড, সিমেন্ট, পানির ড্রাম, লোহার যন্ত্রাংশ, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল রেখে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও অস্থায়ী দোকান, পসরা ও ভাসমান ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। ফলে পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকেরাও তাদের উৎপাদিত শাকসবজি ও কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য ফুটপাতের পরিবর্তে সড়কের ওপর বসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বাজারে ক্রেতা ও পথচারীদের চাপ বাড়লেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছে না। এতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
একজন পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটপাতে হাঁটার মতো কোনো জায়গাই নেই। বাধ্য হয়ে আমাদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রতিদিন দ্রুতগতির যানবাহনের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

স্থানীয় অটোরিকশাচালক কবির হোসেন বলেন, “ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় রাস্তা অনেক সংকুচিত হয়ে গেছে। তার ওপর ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীদের রাস্তার ওপরই ওঠানামা করতে হয়। বড় যানবাহন এলে পাশ কাটানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।”
ব্যবসায়ীদের একটি অংশও স্বীকার করেছেন যে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ফুটপাত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। তবে অনেকের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এ সমস্যা ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে পানছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হেদায়েত তালুকদার বলেন, “আগেও ব্যবসায়ীদের ফুটপাত পরিষ্কার রাখার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসন যদি অবৈধ দখল উচ্ছেদে উদ্যোগ নেয়, বাজার পরিচালনা কমিটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উচিত মনি চাকমা বলেন, এটি মূলত প্রশাসনিক বিষয়। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। উচ্ছেদ অভিযানে আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই পাশে থাকব।
পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বাজার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু একদিনের উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিকল্প জায়গায় অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে ফুটপাত পুনরায় দখল না হয়।
উল্লেখ্য, পানছড়ি বাজারের ফুটপাত দখলের সমস্যা এখন শুধু পথচারীদের ভোগান্তির বিষয় নয়; এটি জননিরাপত্তারও বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের ঘোষিত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ফুটপাতের মূল উদ্দেশ্য পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। তাই অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত তদারকি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।