আলীকদমে বন্যাকবলিত ৩৫৫ পরিবারে কারিতাসের নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৫টি পরিবারের মাঝে শর্তহীন নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ ও কারিতাস বাংলাদেশ। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে এ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের রূপমুহুরী রিসোর্ট হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নয়াপাড়া ইউনিয়ন ও আলীকদম সদর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত পরিবারের হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
কারিতাস বাংলাদেশের পিএইচইপি-৩ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এ কে এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. কফিল উদ্দিন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে কারিতাস বাংলাদেশের পিওডিএম ড্যানিয়েল শিপু গোমেজ, পিএম ড্যানিয়েল ধৃতু স্মাল, এইচজিইএস কর্মকর্তা মালিহা মুসতারিন, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, ফিল্ড অফিসার রিপন বড়ুয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
কারিতাস বাংলাদেশের পিএইচইপি-৩ প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা জেসমিন চাকমা জানান, স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের অর্থায়নে ৩৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হিসেবে ২০ লিটারের ঢাকনাযুক্ত বালতি, প্লাস্টিকের মগ, স্যানিটারি ন্যাপকিন, নেইল কাটার, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানীয় পানি এবং ১০টি ওআরএস সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে কারিতাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে এ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. কফিল উদ্দিন উপকারভোগীদের উদ্দেশে বলেন, নগদ সহায়তার অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন কিংবা অন্যান্য আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগ করলে তা ভবিষ্যতে পরিবারকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, মানুষের দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব, আর কারিতাস বাংলাদেশ বন্যার শুরু থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।