মহালছড়িতে দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পরিচালিত প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরিচালিত ALERT B075 প্রকল্পের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশিকা অ্যাসোসিয়েটসের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর বিপ্লব চাকমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, ১ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মানিক রঞ্জন খিসা, ৪ নম্বর মাইসছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাজাই মারমা এবং মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ছানোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া সভায় সেফগার্ড অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন অফিসার ঝুমালিয়া চাকমা, প্রকল্পের উপজেলা ফোকাল টারজানিন তঞ্চঙ্গাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন ও উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবন-জীবিকার সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগের পর শুধু ত্রাণ সহায়তা নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবন-জীবিকা পুনর্গঠনে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করলে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রকল্পের সফল অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে অর্জিত সাফল্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। উপকারভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, দুর্যোগ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, সচেতনতা তৈরি এবং টেকসই জীবন-জীবিকার সুযোগ তৈরিই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সভাটি সঞ্চালনা করেন ALERT B075 প্রকল্পের উপজেলা ফোকাল টারজানিন তঞ্চঙ্গা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।