পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বান্দরবানে অংশীজনের মতবিনিময়

পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বান্দরবানে অংশীজনের মতবিনিময়

পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বান্দরবানে অংশীজনের মতবিনিময়
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাহাড়, ঝরনা, নদী ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অপার সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে জেলার পর্যটন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি পরিবেশের কারণে বান্দরবানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন দিন দিন বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দিতে হলে পর্যটকদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মানসম্মত ভ্রমণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতকে আরও গতিশীল, দায়িত্বশীল ও সেবামুখী করে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

পর্যটনকেন্দ্র ও সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পর্যটন পরিবহন, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পর্যটক গাইডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং খাবারের অস্বাভাবিক দাম নেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, পর্যটকের সন্তুষ্টিই একটি পর্যটন এলাকার সুনাম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অন্যতম ভিত্তি।

সভায় ‘সবার জন্য পর্যটন’—এমন মানসিকতা নিয়ে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাহাড়ে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি, বিড়ম্বনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বান্দরবানে অংশীজনের মতবিনিময়

এ সময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা সহজলভ্য করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন অংশীজনরা। তাদের মতে, পর্যটন খাতের বিকাশে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে এর সুফল সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বান্দরবানের পাহাড়, ঝরনা, নদী, বনাঞ্চল এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জেলার পর্যটনের অন্যতম প্রধান সম্পদ। এসব প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারলে বান্দরবান দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

সভায় বান্দরবান সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশীদ, বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার রুবায়েত জামিল, পুলিশ সুপার ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা হীরামনিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশ নেওয়া অংশীজনরা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, নিরাপত্তা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যটকবান্ধব সেবার সমন্বয় ঘটাতে পারলে বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এর মাধ্যমে জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে আরও তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।