পাকিস্তানের পর সৌদিকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা তুরস্কেরও

পাকিস্তানের পর সৌদিকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা তুরস্কেরও

পাকিস্তানের পর সৌদিকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা তুরস্কেরও
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের জেরে মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। এর আগে পাকিস্তানও একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের সামরিক ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজন তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা বিবেচনা করবে আঙ্কারা।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন হাকান ফিদান। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদ এই সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লড়াই বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

হুথি-সৌদি পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা রয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপরও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হয়েছে।

সৌদি আরবকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানেরও

সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে বলেন, সৌদি আরবকে ‘যে কোনো মাত্রায়’ রক্ষা করবে পাকিস্তান।

প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তার কথাও বলেন তিনি। তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনের সময় পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে।

সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোট

গত ৭ আগস্ট মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ স্বাক্ষর করেন।

গত ৩১ আগস্ট তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থার নাম দেয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। ইস্তাম্বুলে কর্মকর্তাদের বৈঠকে রিয়াদে একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে এর মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।

চুক্তির মূল নীতি হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জোটের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

ফিদান এর আগে বলেছিলেন, এই জোট অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটের দরজা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা এখন পর্যন্ত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ন্যাটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো বা স্থায়ী বাহিনী এই জোটে নেই।

পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *