দুর্গম পাহাড়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ, ৬ পাড়ার মানুষের চলাচলে স্বস্তি এনে দিল সেনাবাহিনী
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পাহাড়ে জেলা খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সহজ ও কার্যকর সমাধানে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুল্লাতলী ইউনিয়নের দুর্গম ছয়টি পাড়ার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্প। দুর্গম পাহাড়ে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করতে নেওয়া এ উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে প্রায় ৩০০ মানুষের জীবনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে একটি পানির ছড়া পার হয়ে চলাচল করতে হতো। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক সময়েও এ পথ ব্যবহার করতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষা মৌসুমে ছড়ায় পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠত। কখনো কখনো পানির স্রোতের কারণে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হতো স্থানীয়দের।
এই বাস্তবতায় একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাঁকোটি নির্মাণের ফলে ছয়টি পাড়ার বাসিন্দারা এখন আগের তুলনায় সহজে ও নিরাপদভাবে ছড়া পার হয়ে যাতায়াত করতে পারছেন। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমেছে।

এ যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে সবচেয়ে সরাসরি যুক্ত দুল্লাতলী হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে তাদের নিয়মিত নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। বর্ষাকালে ছড়ার পানি বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠত। নতুন সাঁকো নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও চলাচলের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বাড়তি সুবিধা তৈরি হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে একটি ছোট সেতু বা সাঁকোও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের জন্য পানির ছড়া পারাপার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি সাঁকো নির্মাণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমানোর বাস্তব উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, ছয়টি পাড়ার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করেন। আগে ছড়া পার হতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে ঝুঁকি নিতে হতো। এখন সাঁকোটি ব্যবহার করে তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে। তাঁদের মতে, বড় ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ না থাকলেও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় একটি সাঁকো নির্মাণই আপাতত মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে।

সেনাবাহিনীর দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্পের এ উদ্যোগের গুরুত্ব এখানেই যে, এটি স্থানীয় জনগণের একটি প্রত্যক্ষ ও দীর্ঘদিনের সমস্যাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদে যেখানে যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা অনেক সময় সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল, সেখানে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট পরিসরের অবকাঠামোগত সহায়তাও মানুষের জীবনযাত্রায় তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনতে পারে।
শুধু চলাচলের সুবিধা নয়, এমন উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো কাছ থেকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সহায়তা দেওয়া হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন আরও সহজ হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জীবিকার মতো মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছোট ছোট সমস্যার সমাধানও পাহাড়ি জনপদের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুল্লাতলী এলাকার মানুষের জন্য নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি তাই শুধু একটি পারাপারের মাধ্যম নয়; এটি ছয়টি পাড়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করার একটি প্রয়োজনীয় সংযোগ। প্রায় ৩০০ মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাঁকোটির ব্যবহার স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় একটি বাস্তব সুবিধা তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি।
স্থানীয়রা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের চলাচলের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য লক্ষ্মীছড়ি জোনের দুল্লাতলী আর্মি ক্যাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।