বাল্যবিবাহমুক্ত বান্দরবান গড়তে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন উন্নয়নকর্মীরা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে পর্যায়ক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভাটি বাস্তবায়ন করে বান্দরবান সদর এডিপি (গ্রাউস)।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি অঞ্চলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে পরিবার ও সাধারণ মানুষকে অবহিত করা এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তারা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ বা আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহের সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এ প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।
আয়োজকরা জানান, স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বান্দরবান সদর উপজেলাকে সম্পূর্ণ বাল্যবিবাহমুক্ত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোকে পর্যায়ক্রমে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা পরিবার ও শিশুদের বিষয়ে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে বান্দরবানকে বাল্যবিবাহমুক্ত করা সম্ভব। জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস)-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার সোনিয়া আফরোজ, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং উন্নয়নকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ জীবনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি গণমাধ্যমের ধারাবাহিক সচেতনতামূলক প্রচার এবং স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাগুলো তুলে ধরার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকাকে বাল্যবিবাহমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।