রামগড়ে কর্মসংস্থান তৈরিতে বিজিবির উদ্যোগ, কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ-পুরস্কার বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়ে বেকার যুবক-যুবতীদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রামগড় বিজিবির জোনের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রামগড় বিজিবি জোনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন রামগড় জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ ও পুরস্কার হাতে পেয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অনুষ্ঠানে রামগড় জোন অধিনায়ক বলেন, রামগড় বিজিবি জোন দৈনন্দিন অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রামগড় সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতা ব্যক্তিগত জীবনে কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবেন।
বর্তমান সময়ে কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে কম্পিউটার পরিচালনা ও প্রযুক্তিনির্ভর মৌলিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তরুণদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সেলাই প্রশিক্ষণ বিশেষ করে নারীদের ঘরে বসে বা স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করার মাধ্যমে আয় করার সুযোগ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
রামগড়ের মতো সীমান্তবর্তী ও পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক এমন উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেশি। অনেক তরুণ-তরুণীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পর কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় কারিগরি দক্ষতা অর্জন তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কেউ চাকরির পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করতে পারেন, আবার কেউ ক্ষুদ্র পরিসরে উদ্যোক্তা হিসেবেও গড়ে উঠতে পারেন।

বিজিবির এ উদ্যোগের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো স্থানীয় জনগণকে শুধু সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া। প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত দক্ষতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান বা নিজস্ব উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে কম্পিউটার ও সেলাইয়ের মতো বাস্তবভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা নিজেদের অর্জিত জ্ঞান অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে পারলে এর সুফল আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রামগড় বিজিবি জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও নিয়মিত অপারেশনাল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ফলে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বিজিবির যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রও আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; বরং রামগড়ের বেকার যুবসমাজকে কর্মমুখী দক্ষতায় গড়ে তোলা এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরির একটি বাস্তব উদ্যোগ। স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার সমন্বয় ঘটাতে বিজিবির এমন উদ্যোগ সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।