প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন

প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন

প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬। পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসাধারণের কল্যাণের নিমিত্তে ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটি সদর জোনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন রাঙামাটি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা শুধু প্রশিক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ২০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। বিশেষভাবে পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এবং বাঙালি তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যকে সামনে রাখা হয়।

প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইনে তথ্য অনুসন্ধান এবং দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক ধারণার পাশাপাশি শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান।

বর্তমান সময়ে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। ফলে কম্পিউটার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মৌলিক জ্ঞান একজন তরুণের জন্য শুধু অতিরিক্ত কোনো দক্ষতা নয়, বরং কর্মজীবনে প্রবেশ ও টিকে থাকার অন্যতম প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ সেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি করছে।

প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলোতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ যত বাড়বে, ততই তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পরিধি বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা স্থানীয় পর্যায়েই বিভিন্ন ধরনের সেবা, ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইনভিত্তিক কাজ কিংবা অন্যান্য আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে পারেন। এ দিক থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রাঙামাটি সদর জোনের এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পাহাড়ি ও বাঙালি তরুণ-তরুণীদের একই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। একই পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, একে অপরের সঙ্গে কাজ করা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই জনগোষ্ঠীর তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর মতো কর্মসূচি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে সরাসরি অবকাঠামো বা আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে তরুণদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।

প্রযুক্তি দক্ষতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে তরুণদের এগিয়ে নিচ্ছে সেনাবাহিনীর রাঙামাটি জোন

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের নিজেদের অর্জিত দক্ষতা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করার এবং তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের পড়াশোনা, চাকরি কিংবা আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

রাঙামাটি সদর জোনের এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর তরুণদের একই প্ল্যাটফর্মে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতিকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, তা পার্বত্য চট্টগ্রামে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *