জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় হট্টগোল, বিজেপির তিন বিধায়ককে বের করে দিলেন স্পিকার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
জম্মু-কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ পুনর্বহালের দাবিতে পাস হওয়া একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। একপর্যায়ে বিজেপির কয়েকজন বিধায়ককে বিধানসভার কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিধানসভায় এ নিয়ে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মার্শালদের (বিধানসভার শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত) ধস্তাধস্তিও হয়। বিরোধী সদস্যরা ‘বিশেষ মর্যাদা’ সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রতিবাদে স্পিকারের আসনের সামনে থাকা ওয়েলে চলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
স্পিকার আবদুল রহিম রাথারের নির্দেশে অন্তত তিনজন বিধায়ককে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে বিজেপি বিধায়ক বলবন্ত মানকোটিয়া ও বিক্রম রান্ধাওয়া ছিলেন। তবে বের করে দেওয়ার সময়ও বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে মার্শালদের উত্তেজনা অব্যাহত থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শেষ পর্যন্ত দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার।
বৃহস্পতিবার সকালে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই হট্টগোল শুরু হয়। আগের দিন, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় ‘বিশেষ মর্যাদা’ পুনর্বহালের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়। বিজেপি বিধায়কেরা ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি বিধায়ক সুনীল শর্মা প্রস্তাবটি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টির নেতা ও লাংগেটের বিধায়ক শেখ খুরশিদ বিধানসভার ওয়েলে চলে যান। তার হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমরা ৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের দাবি জানাই। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।’
এ ঘটনায় বিজেপি বিধায়কেরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার প্রথমে ১৫ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করেন। তবে বিরতির পরও বিজেপি সদস্যদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে।
অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকার সদস্যদের নিজ নিজ আসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু হট্টগোল চলতে থাকে। এ সময় তিনি সদস্যদের নিয়ম ভঙ্গ না করার সতর্ক করে বলেন, কিছু সদস্যের কর্মকাণ্ড তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এরপর বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা বিশেষ মর্যাদা নিয়ে ন্যাশনাল কনফারেন্সের ‘নাটক’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্যের পর বিধানসভায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এর আগে বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী বিশেষ মর্যাদা নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি ও অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ মর্যাদা ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং সেগুলো একতরফাভাবে বাতিল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে বিধানসভার হট্টগোল নিয়ে বিজেপি নেতা ও সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী কবিন্দর গুপ্তা অভিযোগ করেন, ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ কাশ্মীরের কয়েকটি রাজনৈতিক দল জম্মু-কাশ্মীরের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
কবিন্দর গুপ্তা বলেন, বিরোধীদের বিরোধিতা করার অধিকার রয়েছে, তবে বিধানসভায় যে ধরনের কর্মকাণ্ড হয়েছে তা সঠিক ছিল না। তার দাবি, কয়েকজন বিরোধী সদস্যকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্শালদের উপস্থিত থাকতে হয়েছে।
গুপ্তা আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনায় ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতারা জড়িত থাকতে পারেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।