বিধানসভায় কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিধানসভায় অঞ্চলটির পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের প্রস্তাব পাস হয়েছে। সোমবার কাশ্মীরের বিধানসভায় আনা এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে আইনি বাধ্যবাধকতাহীন এই প্রস্তাবকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
২০১৯ সালের আগস্টে নরেন্দ্র মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ভারতের সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনসংক্রান্ত বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। এরপর থেকে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের হিমালয় উপত্যকার শাসনব্যবস্থা নিয়ে যে দীর্ঘ বিতর্ক চলে আসছে, তাতে বিধানসভার এই প্রস্তাব নতুন এক মোড় তৈরি করেছে।
বিধানসভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, ‘রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাওয়া এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার।’ তবে প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির আগেই বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপির বিধায়করা। তাদের অনেকেই প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার ‘উপযুক্ত সময়ে’ কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই প্রস্তাবে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল রাজ্যের মর্যাদা ‘অবিলম্বে ও জরুরি ভিত্তিতে’ পুনর্বহালের জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে ২০০০ এবং ২০২৪ সালে পাস হওয়া স্বায়ত্তশাসনের দাবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই তিনটি প্রস্তাবের কোনোটিরই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। নয়াদিল্লির সরাসরি শাসনে আসার পর ২০২৪ সালে কাশ্মীরে প্রথমবারের মতো সরকার নির্বাচিত হয়। বর্তমানে এই সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছে ওমর আবদুল্লাহর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স।
নির্বাচিত হলেও স্থানীয় এই সরকারের ক্ষমতা খুবই সীমিত। কার্যত এখনো অঞ্চলটি পরিচালিত হচ্ছে দিল্লির নিয়োগ করা একজন প্রশাসকের (উপরাজ্যপাল) মাধ্যমে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে বিভক্ত। পরমাণু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশী দেশ পুরো কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘাতও হয়েছে; যার সর্বশেষ নজির দেখা যায় গত বছর।
কাশ্মীরে ভারতীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হওয়ার দাবিতে ১৯৮৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেছিল বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বর্তমানে এই অঞ্চলে ভারতের প্রায় পাঁচ লাখ সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সেই বিদ্রোহের তৎপরতাও অনেকাংশেই দমন করা হয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।