রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুদকের অভিযান, ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের নথি তলব

রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুদকের অভিযান, ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের নথি তলব

রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুদকের অভিযান, ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের নথি তলব
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটিতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ওয়াশ ব্লকের তিনটি প্রকল্পে প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে একই টেন্ডারের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলেও সেখানেও অনিয়মের মাধ্যমে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এসব প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রাথমিক অভিযোগের কথা জানিয়েছে দুদক। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচন এবং কাজের মান—সবকিছুই নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পানি ট্যাংক নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বেশি দর প্রস্তাব করা একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কীভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখছে দুদক।

অভিযান চলাকালে দুদক কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর টেন্ডারসংক্রান্ত নথি, দরপত্রের কাগজপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র তলব করেন। তবে অভিযান চলাকালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সব নথি দিতে পারেনি। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র দুদক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে দুদকের অভিযান, ৩০ কোটি টাকার প্রকল্পের নথি তলব

দুদক কর্মকর্তারা জানান, তলব করা নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে মামলা করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযানের বিষয়ে দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ ও সরওয়ার হোসেন উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকে বিভিন্ন তথ্য জানান। এ সময় দুদকের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, উপ-সহকারী পরিচালক সরওয়ার হোসেন ও এসআই সাজিবুল ইসলাম মাসুদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে দুদকের উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবাগ বড়ুয়া। তিনি বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগগুলোর সঙ্গে একমত নন বলে জানিয়েছেন।

অভিযানের ফলে এখন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর দরপত্র প্রক্রিয়া, ঠিকাদার নির্বাচনের নথি, কাজের অনুমোদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কাগজপত্র দুদকের যাচাইয়ের আওতায় আসছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দেওয়ার কারণ, পুনঃদরপত্রের প্রক্রিয়া এবং বেশি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়েছে—এসব বিষয় নথি যাচাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের পানি, স্যানিটেশন ও জনস্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এসব প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, দরপত্র প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের নথি তলব ও পরবর্তী যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

এদিকে রাঙামাটিতে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযান নতুন নয়। এর আগে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগেও দুদক অভিযান চালিয়ে টেন্ডারসংক্রান্ত নথি তলব করেছিল। ফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই অভিযানেও নথিপত্র যাচাইয়ের পর অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *