সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ

সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ

সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তুলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বান্দরবানে ফ্রিজ ও এসি মেরামত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণ হাতে-কলমে ফ্রিজ ও এসি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছেন।

বুধবার বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), মেঘলায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বান্দরবান সদর জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

গত ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রশিক্ষণটি চলে ২৫ দিন। এতে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার ১৯ জন তরুণ অংশ নেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের ফ্রিজ ও এসি মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহাতাব উদ্দিন পাটোয়ারী।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অর্জিত কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা নিজ এলাকায় ফ্রিজ ও এসি মেরামতের সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আয় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ছোট পরিসরে নিজস্ব কারিগরি সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে ফ্রিজ ও এসির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব যন্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ কারিগরের চাহিদাও রয়েছে। দুর্গম এলাকার তরুণদের এ ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে তারা স্থানীয় পর্যায়েই দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সেবার সুযোগও বাড়বে।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক তরুণের জন্য শহরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা চাকরির সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। এ বাস্তবতায় স্থানীয় তরুণদের কাছে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া তাদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট কারিগরি পেশায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকায় তরুণরা প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে তরুণদের কারিগরি দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা গেলে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। একজন প্রশিক্ষিত তরুণ নিজে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য তরুণদেরও কাজে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারেন। ফলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যক্তি পর্যায়ের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার ১৯ তরুণের হাতে কারিগরি দক্ষতা, সনদপত্র বিতরণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সেনা রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বান্দরবান সদর জোনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ উদ্যোগে দুর্গম এলাকার তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতা তৈরিতে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পাহাড়ি অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকরা আরও জানান, স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা সৃষ্টি এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার তরুণদের বাজারমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গেলে তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ আরও বাড়বে।

প্রশিক্ষণ শেষে সনদ হাতে পাওয়া তরুণদের মধ্যে নতুন করে কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কারিগরি জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগও তৈরি হয়েছে তাদের সামনে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ ধরনের বাস্তবমুখী উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বান্দরবানের দুর্গম এলাকার আরও তরুণ দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *