কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত মস্কো- পুতিন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা না বাড়াতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার বাল্টিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদে হামলা হলে তা ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রসহ দেশের অস্ত্রভান্ডারে থাকা ‘সব ধরনের অস্ত্র’ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত মস্কো।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোর ‘ভালদাই ডিসকাশন ক্লাব’-এ দেওয়া বক্তব্যে পুতিন জানান, ইউরোপের কোনো দেশে হামলার পরিকল্পনা তার নেই। তবে ন্যাটোভুক্ত পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চল কালিনিনগ্রাদে আগ্রাসন চালানো হলে রাশিয়া তার কড়া জবাব দেবে।
সম্প্রতি সেখানে ন্যাটোর সামরিক মহড়া ও আকাশ বা সমুদ্রপথে এলাকাটি অবরুদ্ধ করার চেষ্টার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। ন্যাটো বলেছে, প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতেই এসব মহড়া চালানো হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে রাশিয়া।
পুতিন সতর্ক করে বলেন, ‘যদি সরাসরি রাশিয়ান ফেডারেশনের ওপর, বিশেষ করে কালিনিনগ্রাদ কিংবা অন্য কোনো ভূখণ্ডে হামলা হয়, তবে অবশ্যই আমাদের অস্ত্রাগারের সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অনিবার্যভাবে সামনে আসবে।’
ন্যাটো, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাজ্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, নাশকতা ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া সমর্থন দুর্বল করতেই এসব করছে রাশিয়া।
মস্কো যাকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে, সেই ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে। তবে যুদ্ধ কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি পুতিন। বরং শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও রাজধানী কিয়েভে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ রুশ নাগরিকদের ওপরও পড়ছে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সামনে পুতিন স্বীকার করেন, ইউক্রেনের এসব হামলায় রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে এবং কৃষ্ণসাগরে তাদের ১০০টির বেশি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে।
তবে অর্থনৈতিক চাপের মুখেও পুতিন পিছু হটতে নারাজ। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমার নবনির্বাচিত সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অন্যদের মতো রাশিয়া বিশ্বজুড়ে হাত পেতে ভিক্ষা চেয়ে নিজেকে অপমানিত করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, কারণ এটি অপমানজনক। দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের কিছু দিতে যাচ্ছে না এবং আমরা তা খুব ভালোভাবেই জানি। আর তৃতীয়ত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমাদের এর প্রয়োজন নেই। রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতি নিরাপদ।’
আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষের সুযোগের কথা বললেও লেভাদা সেন্টারের আগস্টের এক জরিপ বলছে, ৫৯ শতাংশ সাধারণ রুশ নাগরিক এখন শান্তি আলোচনার পক্ষে।
তবে রয়টার্সের হাতে আসা রাশিয়ার বাজেট নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে ১৭.১ ট্রিলিয়ন রুবল ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে মস্কো; যা ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ সামরিক বাজেট।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।