মণিপুরে বনভূমির ৩০৭ হেক্টরে অবৈধ পপি চাষ শনাক্ত, ১২ বনকর্মী বরখাস্ত

মণিপুরে বনভূমির ৩০৭ হেক্টরে অবৈধ পপি চাষ শনাক্ত, ১২ বনকর্মী বরখাস্ত

মণিপুরে বনভূমির ৩০৭ হেক্টরে অবৈধ পপি চাষ শনাক্ত, ১২ বনকর্মী বরখাস্ত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

ভারতের মণিপুরে বনভূমির ৩০৭ হেক্টর জমিতে অবৈধভাবে পপি চাষ শনাক্ত করেছে বন বিভাগ। রাজ্যের চূড়াচাঁদপুর, সেনাপতি ও চান্দেল জেলায় এসব চাষের সন্ধান পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে শনাক্ত জমির ২৫৫ হেক্টর এলাকায় বাঁশও রোপণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বন বিভাগের প্রধান মুখ্য বন সংরক্ষক অনুরাগ বাজপাই এ তথ্য জানিয়েছেন।

বন বিভাগের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনুরাগ বাজপাই বলেন, অবৈধ পপি চাষ শনাক্ত করতে বনাঞ্চলে জরিপ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী দিনে আরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত হতে পারে। তাঁর মতে, পপি চাষ বনভূমি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই গুরুতর হুমকি। এ সমস্যা চিহ্নিত ও মোকাবিলায় ২০১৮ সাল থেকে বনাঞ্চলে জরিপ চালানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমির পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ২৫৫ হেক্টর জমিতে বাঁশের চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোস্ত গাছের বিস্তার রোধ করতে পারে—এমন উদ্ভিদ প্রজাতি নিয়েও গবেষণা করছে বন বিভাগ। বাজপাই বলেন, পপির বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হতে পারে এবং সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে এর বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর উদ্ভিদ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পপি চাষ নিরুৎসাহিত করতে স্থানীয় গ্রামপ্রধানদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বন বিভাগ। এ চাষের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত অক্টোবর মাসে পোস্ত গাছে ফুল আসে উল্লেখ করে বাজপাই জানান, এ সময় অবৈধ চাষ ধ্বংস করতে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে বনাঞ্চলে আগুন লাগা, অবৈধ পপি চাষ, বনজ সম্পদ পাচার, বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাণিজ্য ও অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার মতো অপরাধ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে বন বিভাগ। বাজপাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মণিপুরের ভৌগোলিক আয়তনের প্রায় ৭৮ শতাংশ বনভূমি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ, আর রাজ্যের মোট আয়তনের প্রায় ৭৪ শতাংশজুড়ে রয়েছে বন আচ্ছাদন।

বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে একটি আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) জারি করা হয়েছে। আগুন লাগার ঘটনা মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বনজ সম্পদ পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাজপাই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের সেগুন কাঠ, সুপারি ও অন্যান্য কাঠ রাজ্যে পাচার হয়ে আসা পণ্যের মধ্যে রয়েছে। এ ধরনের বাণিজ্য বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে বন বিভাগ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বনকর্মীরা পায়ে হেঁটে টহলও দিচ্ছেন।

জব্দ করা বনজ সম্পদ থেকে বন বিভাগের রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। বাজপাই জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩০ কোটি রুপি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৮ কোটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৭ কোটি রুপিতে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, জব্দ করা বনজ সম্পদ নির্ধারিত পরিচালন পদ্ধতি অনুসরণ করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে হয়। পরে বন বিভাগ এসব সম্পদ নিলামে বিক্রি করে রাজস্ব আদায় করে।

এদিকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী হত্যা ও অনুমতি ছাড়া মাটি কাটাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এসব কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাজপাই। তিনি জানান, গাছ কাটার একটি অভিযোগের ঘটনায় থৌবল বন বিভাগের ১২ জন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে; প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বনভূমি থেকে অবৈধ পোস্ত চাষ উচ্ছেদ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরিতে মণিপুর বন বিভাগের এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed