সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দিল্লিতে ধরপাকড়, সাংবাদিকসহ আটক ১০০
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে রোববারও (১১ অক্টোবর) ব্যাপক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত ছিল।
এদিন সাংবাদিকসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত বিক্ষোভকারীও ছিলেন। তাদের কারও কারও শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার বাইরে, কনট প্লেস (রাজীব চক) ও আর কে আশ্রম মার্গ এলাকায় সাংবাদিকদের আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় দৈনিকের একজন সাংবাদিক, কয়েকটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের কর্মী ও ক্যামেরাপারসন ছিলেন। শুধু প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার বাইরে থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়।
রাজীব চকে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া একটি বাসে অন্তত দুজন সাংবাদিক ও অন্তত দুজন আহত বিক্ষোভকারী ছিলেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, কারও কারও শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে দুটি বাসে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিন একটি বার্গারের দোকান থেকেও এক ব্যক্তিকে বিক্ষোভকারী সন্দেহে টেনে বের করে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিওতে তাকে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, তিনি সেখানে শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন, কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। তিনি পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও পুলিশি অভিযান
পুলিশের এই পদক্ষেপ আসে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের পর। রোববার (১১ অক্টোবর) বিশেষ শুনানিতে আদালত জানান, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক করা যাবে না। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার বাইরেও এ ধরনের বিক্ষোভকারীদের আটক করে রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দেন আদালত।
বিক্ষোভকারীদের গণহারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা ও শনিবারের (১০ অক্টোবরের) কর্মসূচির আগে পরিবহনব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ নিয়ে করা জরুরি আবেদনের শুনানিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ৯ অক্টোবর পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রোববার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ দিল্লিতে মেট্রো ও রেল চলাচল স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত চত্বরের আশপাশে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তা সরিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপ্রার্থীদের আদালতে নির্বিঘ্নে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।