মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৭ হাজার ৫০০ কেজি সিমেন্টসহ ১২ জন আটক
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৩৭ হাজার ৫০০ কেজি সিমেন্টসহ ১২ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, অপারেশন ‘সার সুরক্ষা’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের জাহাজ ও স্টেশন সেন্টমার্টিনের সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে গভীর সমুদ্রে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল সমুদ্রপথে একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি লক্ষ্য করে। এ সময় বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি তা অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে গভীর সমুদ্র এলাকায় বোটটি আটক করতে সক্ষম হন।
আটকের পর বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে বহন করা ৩৭ হাজার ৫০০ কেজি সিমেন্ট পাওয়া যায়। জব্দ করা সিমেন্টের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় বোটে থাকা ১২ জনকে পাচারকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। একই সঙ্গে পাচারে ব্যবহৃত বোটটিও জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। সন্দেহজনক বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে বোটটি আটক করা হয়। তল্লাশিতে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট এবং আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে চোরাচালান, মানবপাচার, মাদক ও অবৈধ পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্র এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেন্টমার্টিনের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সমুদ্রপথে দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে কোস্ট গার্ড সর্বদা তৎপর রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।