টানা ১১ দিন ধরে জ্বলছে ইনানীর সেই আগুন

টানা ১১ দিন ধরে জ্বলছে ইনানীর সেই আগুন

টানা ১১ দিন ধরে জ্বলছে ইনানীর সেই আগুন
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্ত থেকে বের হওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের আগুন ১১ দিন ধরে জ্বলছে। আগুন আরও কয়েকদিন দিন জ্বলতে পারে বলে ধারণা করছে পেট্রোবাংলা।

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এ সময়ের মধ্যে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের প্রবাহ ক্রমে কমে আসবে। তবে নির্ধারিত সময়ে আগুনের প্রবাহ না কমলে বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণসহ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত ছিল।

গত রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বাপেক্সের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এর আগে গত শুক্রবার পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আগুন নেভানোর বিষয়ে এখনই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) ও পেট্রোবাংলা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো গ্যাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ফরমেশন গ্যাস। রবিবার ঘটনাস্থলে পানির উপস্থিতি দেখা গেছে। পানির উপস্থিতি থাকলে ধীরে ধীরে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভূগর্ভের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে গ্যাসটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এত কম গভীরতায় গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। সাধারণত ২ হাজার থেকে ৪ হাজার মিটার গভীরতার গ্যাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হলেও এ ক্ষেত্রে কম গভীরতার কারণে নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ‘পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের গঠিত কমিটি আগামী ১৫ দিন গ্যাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর পর্যবেক্ষণের ফলাফল ও কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

১ নভেম্বর পেট্রোবাংলার জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক তারিকুল ইসলাম খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী সেতুসংলগ্ন এলাকায় একটি গভীর নলকূপ খননের সময় প্রায় ১ হাজার ফুট খননের পর ভূগর্ভ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে যায়। ঘটনার পরপরই বাপেক্সের দুজন ভূতত্ত্ববিদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা কক্সবাজারে অবস্থান করে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আগুনের উৎস অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের শিখার রং কালো হওয়ায় গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট নির্গমনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে গ্যাসের প্রকৃত উপাদান, উৎস ও পরিমাণ নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পরও আগুনের শিখা একই রকম থাকলে বা বাড়লে সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, এ সময়ের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *