রাজনগর জোনের মানবিক উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা ও সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টান্ত

রাজনগর জোনের মানবিক উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা ও সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টান্ত

রাজনগর জোনের মানবিক উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষা ও সম্প্রীতির নতুন দৃষ্টান্ত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনগ্রসর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনসাধারণের জীবনমান সমৃদ্ধ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে রাজনগর জোন (৩৭ বিজিবি)। শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) লংগদুর রাজনগর জোনের উদ্যোগে একাধিক মানবিক ও দেশপ্রেমমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

এদিন রাজনগর জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহনেওয়াজ তাসকিন জোনের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সিবেরেগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে একটি নতুন ফ্লাগ পোল ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

জোন অধিনায়কের উপস্থিতিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদাত্ত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবনির্মিত ফ্লাগ পোলটিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেশপ্রেম ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের কর্মসূচি শেষে মাঘীপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে জোন কমান্ডার সিবেরেগা এলাকায় অবস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয় কিয়াংঘর পরিদর্শন করেন। তিনি কিয়াংঘরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন এবং শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে একটি ফলের ঝুড়ি উপহার দেন। বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

পরবর্তীতে কিয়াংঘর প্রাঙ্গণে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন জোন অধিনায়ক।

সভায় তিনি বলেন, রাজনগর জোন কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কাজ করছে না, বরং পাহাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে আধুনিক ও মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই বিজিবির অন্যতম লক্ষ্য।

এ সময় তিনি যুব সমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এলাকায় একটি সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও ইতিবাচক পথে ফেরানো সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি জোন কমান্ডার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দল যদি ভুল পথ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে বিজিবি তাদের পুনর্বাসনের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

রাজনগর জোনের এসব মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিজিবির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।

প্রসঙ্গত, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে বিজিবি ধীরে ধীরে একটি জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় করে তুলছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed